বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ ব্যতিত ৯টি উপজেলার জন্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তদ্বির চালাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ উপজেলায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৭২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ৫৭ জন ও মহিলা পদের জন্য ৪২ জন দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। একইসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন তদ্বির। একাধিক উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে টেক্কা দিতে দলের পদ-পদবী প্রাপ্তরা মাঠে নেমেছেন। গতকাল রাতে উপজেলা নির্বাচনে কোন পদ্ধতিতে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ। বৈঠকে দলটির জেলা সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র সভাপতিত্বে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম, জেলার সংসদ সদস্যগণ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল সদর উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে বর্তমান চেয়ারম্যান দলটির নগর সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, দলটির জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, দলটির সদর উপজেলা সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি, ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম ও দলটির সদর উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক বিএম কলেজের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসাইন দৌড়ঝাঁপ করছেন। আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে দলের প্রার্থী হতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলটির জেলা সদস্য গোলাম মর্তুজা খান ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন দলটির উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিন্দ্র নাথ মিস্ত্রি ও জেলা সদস্য রুস্তুম সেরনিয়াবাত।
উজিরপুর উপজেলা থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলটির উপজেলা সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান ইকবাল, জেলা পরিষদ সদস্য আওরঙ্গজেব হাওলাদার, উপজেলা সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুখেন্দ শেখর বৈদ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবিদ-আল হাসান, ইউপি চেয়রাম্যান কাজী হুমায়ুন কবিরও রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের মনোনয়ন যুদ্ধে। বাবুগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন ছাড়াও দলটির উপজেলা সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা মু.আকতার-উজ জামান মিলন, জেলা পরিষদ সদস্য ফারজানা বিনতে ওহাব রয়েছেন মনোনয়ন যুদ্ধে। মুলাদী উপজেলায় দলটির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান মিঠু ছাড়াও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, দলটির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ উদ্দিন হাওলাদার, বন্দর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান রবিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও দলটির উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাইনুল আহসান সবুজ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
হিজলা উপজেলার চেয়ারম্যান ও দলটির উপজেলা সভাপতি সুলতান মাহমুদ, সাবেক কাউন্সিলর ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, দলটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন, উপজেলা সহ-সভাপতি বেলায়েত ঢালী, জেলা পরিষদ সদস্য দলিল উদ্দিন সিকদার ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম স্বপন চৌধুরী মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। গৌরনদী উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধারও নাম শোনা যাচ্ছে।
বানারীপাড়া উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলটির উপজেলা সহ-সভাপতি গোলাম ফারুক ছাড়াও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মাওলাদ হোসেন ছানা, দলটির উপজেলা সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা সহ-সভাপতি মাহমুদ হোসেন মাখন ও ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দীন আহমেদ কিসলুও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলটির উপজেলা সভাপতি শামচুল আলম চুন্নু, উপজেলা সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ আলম খান মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
উপজেলা নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতি বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকাটাই স্বাভাবিক। এদের মধ্য থেকে দলের ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র যোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দিবে।
