সরকারি বিভিন্ন কর্মকান্ড ও পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা নামে একটি আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে আইন কমিশন। কমিশন বলছে, আইনটি প্রণীত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে। পাশাপাশি আদালত ও সরকারি কার্যক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় নজরদারির পথ সুগম হবে। আইনের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের মূখ্য গবেষণা কর্মকর্তা জেলা জজ ফউজুল আজিম। তিনি বলেন, স্বার্থ সংঘাত ও ব্যক্তিগত লাভসহ অন্যান্য শব্দের সংজ্ঞাসমূহ প্রচলিত দুর্নীতিবিরোধী আইনে নেই। খসড়া আইনে এসব শব্দের সংজ্ঞা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকল্পের দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া অবসরে যাওয়ার দুই বছরের মধ্যে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার সুযোগ নেই। স্বার্থ সংঘাত নিরসনে আইনে একটি কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারক ওই কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন। এতে সদস্য থাকবেন চারজন। সদস্যদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা জজ এবং অপর তিনজন সিভিল সোসাইটি হতে আসবেন। কমিশন স্বার্থ সংঘাত নিরসনে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য ও নেয়া ব্যবস্থা ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে পারবে।
আইন কমিশন বলছে, বৃটিশ ভারতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা ও কার্যক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনে ১৯৪৭ সালে ‘দ্যা প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে দেশভাগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সরকার বিভিন্ন জনকল্যানমুখী আইন প্রণয়ন করে। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দায়িত্ব পালনকালে স্বার্থ সংঘাত নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুস্পষ্ট কোন আইন নেই। যা এদেশে সরকারি কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতিকে কোন কোন জায়গায় লাগামহীন করে দিচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া প্রণয়নের জন্য আইন কমিশনকে চিঠি দেয়। ওই চিঠির পর এ খসড়া আইন করা হয়। এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ওই আইনের খসড়া পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব ভট্টাচার্য।
