>> আরফিন শরিয়ত
সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ, আবহাওয়া, তাপমাত্রা কিংবা আর্দ্রতার তারতম্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন পৃথিবীতে যে পরিবেশে কাজ করে মঙ্গলে সে পরিবেশ নেই। তার জন্য প্রয়োজন হয় ভিন গ্রহের উপযোগী মডেল। মঙ্গল গ্রহের জন্য সেরকম উপযোগী করে ড্রোনের মডেল বানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষার্থী। টিম ইন্টারপ্ল্যানেটর নামের দলটির তৈরি এ ড্রোন বিশ্বের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮ম স্থান দখল করেছে। অষ্টম স্থান দখল করলেও ড্রোনে থাকা বিশেষ গ্যাস কমেপ্রসন সিস্টেমের জন্য ‘সেরা উদ্ভাবন’ খেতাব পায় দলটি।
সমপ্রতি মার্স সোসাইটি সাউথ এশিয়া আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানেটরি এ্যারিয়াল সিস্টেম (আইপিএএস) চ্যালেঞ্জে অংশ নেয় বুয়েট, কুয়েট ও ব্র্যাক। বিশ্বের ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ১০ দলের মধ্যে বুয়েট হয় ৮ম, কুয়েট ৯ম ও ১৬তম হয় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছর আইপিএএস আয়োজনের বিষয় ছিল ‘প্রোপেলিং এক্সপ্লোরেশন’ অর্থাত্ উদ্ভাবনে গতি আনা।
ইন্টারপ্ল্যানেটরের সদস্যরা জানান, মঙ্গল গ্রহে গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে এমন ড্রোন তৈরির চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের। কম্পিউটারের বিভিন্ন সিমুলেশনের সাহায্যে পরীক্ষিত নকশার ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন জমা দিতে হয় তাদের। বুয়েটের ইন্টারপ্ল্যানেটার দলে ছিলেন তড়িত্ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের খন্দকার শিহাবুল হক, মো. রাসুল খান, কুশল রায়; যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাজীব চৌধুরী, নাফিজ ইমতিয়াজ, রাফি বিন দস্তগীর, স্বরূপ চন্দ, অপূর্ব সরকার, মিসফাকুর রহমান, সৈয়দ তাওসিফ ইসলাম, মো. আমিন হক, অজয় কুমার সরকার, ইন্তেসার জাওয়াদ জায়গীরদার, ইয়ামিনুল হক, ইমন রায়, ফারসিয়া কাওসার চৌধুরী, এম আবরার মুহিত, আর কে বি এম রিজমি ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এস এম সাকিফ সানি।
‘নির্ভীক’ নামের ড্রোনটি নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মেকানিক্যাল টিমের দলনেতা নাজীব চৌধুরী বলেন, ‘আইপিএএস চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে গিয়ে শুরুতেই আমাদের চিন্তা করতে হয়েছে মঙ্গলের আবহাওয়ার কথা। আমরা চাইলেই ড্রোন বানাতে পারি। ড্রোন বানানোর উপাদান আমাদের কাছে আছে। কিন্তু পরিবেশ, আর্দ্রতা, বাতাসের চাপ, অভিকর্ষের মান ইত্যাদি বিবেচনায় নিলে অনেক বেশী আলাদা এবং কমপ্লেক্স হয়। সব মিলিয়ে এক ভিন্ন পরিবেশের জন্য ড্রোনের নকশা তৈরি করতে হয়েছে আমাদের।
মঙ্গলের মাটিতে গবেষণায় সাহায্য করতে পারবে নির্ভীক। এর ভেতরে থাকা বিভিন্ন সেন্সর মঙ্গলের বায়ুতে থাকা নানা উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা পাঠাতে পারবে নির্ধারিত রোভারে। এ কাজে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মঙ্গলের তাপমাত্রা। প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বৈরী আবহাওয়াতেও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা রেখে তৈরি করা হয়েছে নির্ভীক। দলের সদস্য মো. আমিন হক বলেন, ‘ড্রোন প্রযুক্তি কিন্তু শুধু ভিনগ্রহে অভিযানের জন্য নয়। আমাদের দেশের দুর্যোগকালে খাদ্য সরবরাহ, মানুষকে নিরাপদ স্থানে পথ দেখানো, উদ্ধার অভিযান চালানো, বিভিন্ন নিরাপত্তা মিশন পরিচালনা এমন নানা কাজে ড্রোনের ব্যবহার হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানাতে উত্পাদনের মাত্রা বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে রোবটিকস প্রযুক্তি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে।’
সামনে চোখ রেখে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের দলটি এখন এ বছরের ইউরোপীয় রোভার চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
