মানিকগঞ্জ জেলায় হাইব্রিড ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে কৃষক। দেশীয় জাতের ভুট্টায় তেমন লাভ না হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করছে। হাইব্রিড ভুট্টার উত্পাদন খরচ কম, ফলন বেশি, দামও ভালো পাওয়া যায়। সদর উপজেলার কাটিগ্রাম, মকিমপুর, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লীসহ সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হয়।
জানা গেছে, বছরে দুই বার এই হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হয়- রবি ও খরিপ মৌসুমে। আগস্ট হতে ডিসেম্বর মাস রবি মৌসুম ও ফেব্রুয়ারি হতে এপ্রিল মাস পর্যন্ত খরিপ মৌসুম। তবে রবি মৌসুমেই এই ধরনের ভুট্টার চাষ বেশি হয়। জেলায় ব্রাক, কৃষি বাণিজ্য ও সিনজেনটা কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হয়। এর মধ্যে ব্র্যাকের হাইব্রিড ভুট্টার চাষ বেশি হয়েছে। ব্র্যাকের উত্তরণ, সুপার, মহাবীর, প্যাসেফিক-৯৮৪, প্যাসেফিক-৬০, প্যাসেফিক- ২৯৩ জাতের ভুট্টার জাতগুলো বেশি চাষ হয়। এছাড়াও কৃষিবাণিজ্য কোম্পানির মিরাকেল, এলিট কোম্পানির ইয়ং ও সিনজেনটা কোম্পানির এম.এইচ-৭৭২০ জাতের ভুট্টার চাষ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় মোট ১৬ হাজার ৬ শত ৬৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হয়েছে।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, এবছর ব্র্যাক ৫০ মেট্রিক টন, কৃষি বাণিজ্য ২০ মেট্রিক টন, সিনজেনটা ৩০ মেট্রিক টন ও অন্যান্য কোম্পানি ২৫ মেট্রিক টন ভুট্টা বীজ কৃষকদের কাছে বিক্রয় করেছে। বীজের হিসেবে জেলায় ভুট্টার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৭ হাজার ৫২০ হেক্টর। প্রতি একরে ১২০ মণ ভুট্টা উত্পাদনের আশা করা হচ্ছে।
ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রামের ভুট্টা চাষি নুর আলম মিয়া জানান, এবারে তিনি দেড় বিঘা জমিতে হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেছেন। সব মিলিয়ে তার ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি আশাবাদী চলতি মৌসুম শেষে দেড় বিঘা জমি থেকে অন্তত ৪০ মণ ভুট্টা ঘরে তুলতে পারবেন। প্রতিমণ ভুট্টা ৭শ থেকে সাড়ে ৭শত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশাবাদী তিনি। দেশি জাতের ভুট্টা বাদ দিয়ে হাইব্রিড ভুট্টা চাষের কারণ কি- এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেশি জাতের ভুট্টার ভালো বীজ না পাওয়ায় এবং কম ফলনের কারণে তিনি হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করেন।
সদর উপজেলার মকিমপুর গ্রামের ভুট্টা চাষি সালাম মিয়া বলেন, সার ,কীটনাশক ও সেচের দিক থেকে দেশি জাতের ভুট্টার চেয়ে হাইব্রিড ভুট্টায় খরচ কম, তাই এই এলাকার চাষিরা হাইব্রিড ভুট্টার চাষ বেশি করে থাকেন।
এ বিষয়ে ব্রাক মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার (সেল্স) কৃষিবীদ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উত্তরণ, সুপার, মহাবীর, প্যাসেফিক-৯৮৪, প্যাসিফিক-৬০, প্যাসিফিক- ২৯৩ জাতের ভুট্টার জাতগুলো বেশি চাষ হয়েছে। আশাকরি আগামী বছর আরো বেশি হাইব্রিড ভুট্টার চাষ হবে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, দেশি জাতের ভুট্টার চাইতে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষে লাভ বেশি। তাছাড়া এতে রোগ বালাইয়ের আশঙ্কা অনেক কম, দামও বেশি। আবার দেশি জাতের ভুট্টার বীজের দাম হাইব্রিডের চেয়ে বেশি। তাই জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষে ঝুঁকছে।
