পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে অন্তর্কলহ, তোপের মুখে দিলীপ ঘোষ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২১, ০০:১৬

বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিতে অন্তর্কলহ দেখা দিচ্ছে। সংঘাত বেঁধেছে বিজেপি নেতাদের মধ্যে। গতকাল মঙ্গলবার দলে অন্তর্কলহ দেখা দেয় পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ ধারা জারি ইস্যুতে। সংঘাতের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী, সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

পশ্চিমবঙ্গে ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি। তার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভারতের যেখানে যেখানে ৩৫৬ ধারা জারি করা হয়, সেসব জায়গা থেকেও এখন খারাপ পরিস্থিতি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।’ এর পালটা বিজেপি নেতা রাজীব ব্যানার্জি এক ফেসবুক বার্তায় বলেছেন, ‘সমালোচনা তো অনেক হলো... মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে, কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) মানুষ ভালোভাবে নেবে না।’

অন্যদিকে এদিন দিলীপ ঘোষের ডাকা রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তিন বিজেপি নেতা—মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্ত, রাজীব ব্যানার্জি। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে দল। পরে অস্বস্তি ঢাকতে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘প্রত্যেকের মতোই মুকুল রায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তিনি আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার স্ত্রী কৃষ্ণা রায় কোভিড আক্রান্ত। ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। সে কারণে তিনি হয় তো আসতে পারেননি। রাজীব ব্যানার্জি রাজ্য বিজেপির পদাধিকারী নন। উনি আমন্ত্রিত সদস্য। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য আসতে পারেননি।’

একই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারির না থাকা নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। পরে দিল্লিতে এ নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘তার দিল্লিতে আসার কথা দিলীপ ঘোষ জানতেনই না। তবে কি পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বিজেপির রাজ্য সভাপতির? শুভেন্দু সেকথা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি অমিতাভ চক্রবর্তীকে জানিয়ে দিল্লি এসেছেন। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। বিজেপি দলের মধ্যে ভোট-পরবর্তী বিক্ষোভ ও অন্তর্কলহ নিয়ে কথা হয়েছে কি না, জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, যে নেতাদের নিয়ে বিজেপিতে অস্বস্তি বাড়ছে তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। মুকুল রায় বিধানসভা নির্বাচনে জিতলেও তারপর থেকে দলীয় বৈঠক এড়িয়ে চলছেন। রাজীব ব্যানার্জি তৃণমূল সরকারে সেচমন্ত্রী ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হেরে যান। তারপর থেকে তিনি নীরবতা অবলম্বন করছেন। সব্যসাচী দত্ত কলকাতা লাগোয়া বিধাননগর পৌরসভার সাবেক মেয়র। তৃণমূল ত্যাগ করে তিনিও বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে রাজ্য সভাপতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার। যদিও শুভেন্দু বলছেন, এসব সংবাদমাধ্যমের বানানো।