নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সরকারি ঋণ বাড়ছে। ২০১৩ সালের পর দেশগুলোর সরকারি ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) হিসাবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মূলত বেসরকারি খাত ও অনমনীয় সূত্র হতে দেশগুলোর ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এমনটি হয়েছে। উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশগুলোর সরকারি বাজেটে চাপ বাড়ছে। বাজেটের বিশাল অংশ চলে যাচ্ছে সুদ ও ঋণ পরিশোধে।
বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকনমিক প্রসপেক্ট-২০১৯’ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ সুদের ঋণ গ্রহণের ফলশ্রুতিতে দেশগুলোর বাজেটে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর জেরে দেশের অভ্যন্তরীণ উত্স হতে কর বৃদ্ধির চাপও বাড়ছে। বর্তমানে ১১টি নিম্ন আয়ের দেশ ঋণ নিয়ে এমন দুর্দশায় রয়েছে। দেশগুলোর ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ঝুঁকি সীমা ছাড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সরকারি ঋণের আকার ২০১৭ সাল পর্যন্ত জিডিপির ৬০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গড়ে অন্য দেশগুলোর এ সীমা ৫০ ভাগের নিচে রয়েছে। মূলত ২০১২ সালের পর থেকে উচ্চ সুদের ঋণ গ্রহণ বাড়ছে তুলনামূলক বেশি হারে। উচ্চ সুদের ঋণ দেশগুলোর ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়াচ্ছে। এই দেশগুলোর ঋণ ঝুঁকি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা, সরকারি বিনিয়োগ এবং সম্পদের দক্ষতা বাড়াতে বলা হয়েছে। উচ্চ সুদের ঋণ গ্রহণের বিপরীতে তুলনামূলক বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করলেও ঝুঁকি কিছুটা কমবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, তুলনামূলক বেশি সুদের ঋণ বাড়লে দেশগুলোর অর্থনীতিতে যে সম্ভাবনা রয়েছে তার সদ্ব্যবহার সম্ভব নয়। তা ছাড়া দেশগুলোর মুদ্রা মান কমে গেলে ঋণ পরিশোধের আকারও বেড়ে যায়। এটা ঋণ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
