অবৈধ গ্যাস-সংযোগ

সাবেক মন্ত্রীর ছেলেসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১০ জুন ২০২১, ২২:০৫

চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ প্রদান করায় সাবেক এক মন্ত্রীর ছেলেসহ পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুদক। পরে এই মামলার আসামি কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এক মহাব্যবস্থাপকসহ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার ষোলশহর ও আকবরশাহ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন, সাবেক ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান ও টেকনিশিয়ান দিদারুল আলম।

বাকি দুই আসামি হলেন—কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও অবৈধ সংযোগ পাওয়া গ্রাহক সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান।

দুদকের আইনজীবী সানোয়ার হোসেন বলেন, গ্রেফতারের পর সারওয়ার হোসেন, মুজিবুর রহমান ও দিদারুল আলমকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আশফাকুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত বুধবার দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলটি দায়ের করেন। অবৈধ সংযোগ নিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর দুদক প্রধান কার্যালয় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা এম এ সালাম নামক এক গ্রাহকের (বর্তমানে মৃত) নামে বরাদ্দকৃত ১৮টি দ্বৈত চুলার সংযোগ ছিল। এর থেকে ছয়টি দ্বৈত চুলা রেখে বাকি ১২টি চুলা নগরীর চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকার গ্রাহক মুজিবুর রহমানের নামে হস্তান্তর করা হয়। মৃত সালামের স্ত্রী নুরজাহান সালামের নামে ভুয়া চুক্তিনামা সৃজন করে সেগুলো হস্তান্তর করা হয়। মৃত সালাম ও মুজিবুর রহমানের গ্রাহক সংকেত আলাদা। এই অবস্থায় এক জনের নামে বরাদ্দকৃত সংযোগ অন্য গ্রাহকের নামে হস্তান্তরের আইনগত বৈধতা নেই।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকলেও এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় মুজিবুর রহমানের নামে আরো ১০টি সংযোগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভুয়া আবেদনপত্র সৃজনের মাধ্যমে মুজিবুর রহমানের নামে মোট ২২টি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়।