নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরইশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাসকে (৪৮) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পূর্বশক্রতার জের ধরে বর্তমান চেয়াম্যান আব্দুল হালিম আজাদের লোকেরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ২টার সময় খাসের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রধান সড়কে। নিহত রবীন্দ্র দাস পণ্ডিত গ্রামের সতীশ চন্দ্র দাসের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি ২১ জুনের নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী।
হাতিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আল আমিন ইত্তেফাককে জানান, রাত ২টার দিকে রবীন্দ্র মেম্বারসহ একই মোটরসাইকেলে তিনি বাংলাবাজার থেকে উপজেলা সদর ওছখালীর দিকে আসছিলেন। খাসের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এলে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের ছেলে অমি, ভাতিজা সোহেল, নাজিম ডাকাত, রহিম ডাকাতসহ ৬০-৭০ জন লোক তাদের গতিরোধ করে। এ সময় সে (আল আমিন) দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলে ও সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে রবীন্দ্র মাটিতে পড়ে যায় এবং পরে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। রাতে টহল পুলিশ রাস্তার পাশে রবীন্দ্র মেম্বারকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে চরইশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন জানান, রবীন্দ্র মেম্বারের নেতৃত্বে ১২ জন ইউপি সদস্য বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদ বলেন,আমি বর্তমানে ঢাকা রয়েছি। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি, আমার পরিবারের ও দলের কোনো লোক জড়িত নয়।
এ ব্যাপারে হাতিয়া থানার (ওসি) আবুল খায়ের জানান, মেম্বার রবীন্দ্র চন্দ্র দাসসহ শ্রমিক লীগের সভাপতি আল আমিন রাতে ওছখালী আসার পথে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
