তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়েই সরকারকে জঙ্গি মৌলবাদীদের সাইবার জিহাদ প্রতিহত করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমাদের তরুণরা ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হতে পারলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধেও তা পারবে। তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সাইবার যুদ্ধে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির জঙ্গি জিহাদ মোকাবিলা সম্ভব হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিদের জেহাদের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ :সরকারের করণীয়’ বিষয়ক অনলাইন আলোচনাসভায় বক্তারা একথা বলেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার বলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে শুধু রিপোর্ট করে এই সাইবার জিহাদ প্রতিহত করা সম্ভব নয়। আমরা তাদের প্রতিহত করার মতো সুসংগঠিত নই। সোশ্যাল মিডিয়াগুলো মনিটরিংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষ রাজনৈতিক কর্মীবাহিনী সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ইউটিউব ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজে সরকারের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ তরুণ সমাজের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা।
কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, সাইবার জগতের মাধ্যমেই বর্তমানে দেশবিরোধী, জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাইবার জিহাদ প্রতিরোধে সরকারকে অনুরোধ করি—আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক তরুণ প্রজন্মের সাইবার যোদ্ধাদের ডাকুন।
ওয়েবিনারে ধারণাপত্র পাঠ করেন নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মারুফ রসুল। আলোচক হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক-এর সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর যুগ্ম সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক সাব্বির খান, সুইজারল্যান্ড প্রবাসী গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অমি রহমান পিয়াল, নির্মূল কমিটির আইটি সেলের সভাপতি শহিদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময় প্রমুখ।
