পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসের আলোকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি: বাংলা দ্বিতীয়পত্র

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ২০:৫৯

তাসফিয়া তাসমিন মিশু

প্রভাষক, বাংলা বিভাগ

ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ

যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।

 

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, বর্তমান মহামারির  পরিস্থিতি বিবেচনা করে এনসিটিবি কর্তৃক পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে আমার এ আলোচনা। 

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ব্যাকরণের একটি অংশ:

‘বাংলা শব্দগঠন: উপসর্গ ও সমাস’

নিম্নোক্ত রচনামূলক প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে এ অধ্যায়টি তোমার মোটামুটি আয়ত্তে আসবে।

১. উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।

২. উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা  আলোচনা করো।

৩. ‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’ আলোচনা করো।

উত্তর:

উপসর্গ:বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যার নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, কিন্তু শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করতে সাহায্য করে তাদের উপসর্গ বলে। যেমন:

অ+কাজ= অকাজ

পরি+পূর্ণ = পরিপূর্ণ

প্র+ভাত= প্রভাত

উপর্যুক্ত উদাহরণসমূহে ‘অ’,‘পরি’, ‘প্র’ ইত্যাদি শব্দাংশের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, অথচ শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করেছে। এগুলো উপসর্গ।

উপসর্গের শ্রেণিবিভাগ:উপসর্গ তিন প্রকার। যথা:

১. তত্সম বা সংস্কৃত উপসর্গ

২. খাঁটি বাংলা উপসর্গ

৩. বিদেশি উপসর্গ

১. তত্সম বা সংস্কৃত উপসর্গ: তত্সম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত উপসর্গই তত্সম বা সংস্কৃত উপসর্গ। তত্সম উপসর্গ২০টি। প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উত্, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ। যেমন:

প্র+ভাব= প্রভাব

পরা+জয়= পরাজয়

২. খাঁটি বাংলা উপসর্গ: খাঁটি বাংলা ভাষা থেকে আগত উপসর্গই খাঁটি বাংলা উপসর্গ। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। যেমন:

অনা+বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি

আব+ছায়া= আবছায়া

৩. বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত উপসর্গই বিদেশি উপসর্গ।

আরবিঃ আম্, খাস, লা, গর। যেমন: আম+দরবার

= আমদরবার।

ফারসি:র্কা, দর্, না, নিম্, ফি, বদ্,  বে, বর্, ব্, কম্। যেমন:নিম+রাজি= নিমরাজি।

ইংরেজি: ফুল, হাফ, হেড, সাব। যেমন:হেড+অফিস

= হেড-অফিস।

উর্দু-হিন্দি: হর, হরেক। যেমন:হর+রোজ= হররোজ।

প্রশ্ন:উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা  আলোচনা করো।

উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা:

১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে। যেমন: পরা+ জয়= পরাজয়।

২. শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে।

যেমন: অ+কাজ= অকাজ।

৩. শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ করে। যেমন: পরি+পুষ্টি=

পরিপুষ্টি।

৪. শব্দের অর্থ সমপ্রসারণ করে। পরি+পূর্ণ= পরিপূর্ণ।

৫. শব্দের অর্থের সংকোচন করে। যেমন: উপ+বন= উপবন।