নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাটের উদ্যোক্তা হ্লাশিং মং চৌধুরী জাপানি ‘মিয়াজাকি’ আম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এক সময় খাগড়াছড়ির যে পাহাড়ে জুম চাষ হতো কিংবা বছরের পর বছর বনবাদাড়ে ঢেকে অনাবাদি পড়ে থাকত, এখন এ পাহাড়ের গাছে গাছে দুলছে ‘মিয়াজাকি’ আম। বাংলাদেশে মিয়াজাকি বা রেড ম্যাঙ্গো বা এগ অব দ্য সান (সূর্যডিম) নামে পরিচিত এই আম উত্পাদন করে দেখিয়েছেন হ্লাশিং মং চৌধুরী।
জানা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট উঁচু পাহাড়ি টিলাভূমিতে ২০১৬-১৭ সালে নিজের বাগানে তিনি শুরু করেন মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আমের আবাদ। ১২০টি গাছে এবছর ধরেছে এই আম। চার-পাঁচ বছর বয়সি গাছগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ৩০-৪০টি করে আম ধরেছে। ওজন গড়ে ৩০০ গ্রাম। এই আম খেতে বেশ সুস্বাদু। শুধু সুস্বাদু নয়, দামিও বটে। পাকলে এই আমের রং হয় লাল, পাকার আগে রং থাকে গোলাপি।
চাষি হ্লাশিং মং চৌধুরী জানান, মিয়াজাকি আমের চারাগুলো রোপণ করা হয় পাহাড়ের ঢালে। এগুলোর একটু বেশি যত্ন নিতে হয়েছে। রোপণের চার বছর পরই ফল এসেছে। তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এ আম বিক্রি করা কঠিন। নামিদামি শপিং সেন্টারের ব্যবসায়ীরা এগুলো কিনে নিয়ে যান। এছাড়া শৌখিন লোকজনও এসে কিনেন মিয়াজাকি।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘দেশে মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে এনে ২০১৬ সালে সূর্যডিম জাতের আমের ১ হাজার ৫০০ চারা দেশের ৭৫টি হর্টিকালচার সেন্টারে মাতৃবাগান হিসেবে রোপণ করা হয়। খাগড়াছড়ির মহালছড়িসহ কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে ভালো ফলনই পাওয়া গেছে। আমরা এখন সারা দেশেই এ আমের আবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।’ খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সি রাশীদ আহমেদ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়া যে ‘মিয়াজাকি’ আম চাষের উপযোগী তার প্রমাণ মহালছড়ির বাগান।’
