‘জনপ্রিয়তা কাজের মান নির্ধারণের মাপকাঠি না’

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ২১:১৬

অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও মঞ্চকর্মী, সব ক্ষেত্রেই সফল পদচারণা হূদি হক-এর। বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন সরকারি অনুদানের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে। নিজের নির্মাণ ব্যস্ততা’সহ শোবিজের নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

 এ এম রুবেল

আপনার নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ও অন্যান্য কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

আমার সকল ব্যস্ততা চলছে ‘১৯৭১:সেইসব দিন’ ছবিটির নির্মাণকে ঘিরে। সরকারি অনুদানের এই ছবিটির কাজ অনেক আগেই শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু করোনা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

এ ধরনের ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্রের গল্প বর্তমান প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা কতটা সম্ভব?

যেহেতু একটা সময়কে তুলে ধরতে হচ্ছে সেহেতু সেই সময়ের লোকেশন, ঋতু, মানুষ তৈরি করা সত্যি অনেক চ্যালেঞ্জের। সেই সময়ের ঢাকা আর এই সময়ের ঢাকার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে চেষ্টা করছি সে সময়ের আবহ ঠিক রেখে এবং শিল্পমারের দিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করার।

নতুন এই ছবিটির প্রেক্ষাপটসহ বিস্তারিত জানতে চাই—

‘১৯৭১: সেইসব দিন’ ছবিটিতে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসের জার্নিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। মুক্তিযুদ্ধের একজন মানুষের গল্প কিন্তু সবার গল্প। ছবিটিতে এরইমধ্যে ১ হাজারের বেশি শিল্পী কাজ করেছেন। 

মঞ্চনাটকের প্রতি দর্শক আগ্রহ দিনদিন কমছে। নিয়মিত মঞ্চ কর্মী হিসেবে এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

আমি মনে করি আগ্রহ কমেনি। স্বাধীনতার পর থেকেই থিয়েটারে ভালো ভালো কনসেপ্ট নিয়ে কাজ আমরা দেখেছি। একটু দর্শক কম থাকার কারণ হিসেবে বলবো, আমাদের হল সংকট। শিল্পকলা ও মহিলা সমিতা ছাড়া তো কোনো থিয়েটার নেই। মানুষ চাইলেও দূর থেকে এখানে এসে একটি নাটক দেখতে পারেন না।

টিভি নাটকের প্রতি দর্শক অনিহা তৈরিতে মানহীন কাজকে দায়ী করা হয়। আপনি কাকে দায়ী করবেন?

এখানে আসলে পুরো সিস্টেম দায়ী। টিভি চ্যানেলগুলোর কোনো নীতিমালা নেই। কীভাবে তারা নাটক নির্মাণ এবং কিনছে সেটা ধোঁয়াসার ভেতর রয়েছে। কোনো প্রিভিউ কমিটি নেই। তারা সৃজনশীল এই মাধ্যমটিকে শুধু বাণিজ্যিকভাবেই দেখছে। আমাদের ভালো কাজ হচ্ছে না, তা কিন্তু না। কিন্তু এজেন্সির নির্ভর হয়ে পড়ার কারণে ভালো কাজ আমরা নির্বাচন করতে পারছি না।

ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের যে চর্চার চলছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

ভালো এবং জনপ্রিয় শব্দ দুটির মাঝে কিন্তু তফাত্ রয়েছে। জনপ্রিয় হলে সেটা ভালো হতেও পারে না-ও পারে! শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা কাজের মান নির্ধারণের মাপকাঠি না। আর স্টার হওয়াও খুব সহজ বিষয় নয়।

অনেক শিল্পী-নির্মাতাই নিজেস্ব ঘরানার বাইরে কাজ করতে চান না। এই চর্চা নতুন তারকা তৈরিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না?

দেখুন, একজন একজন নির্দেশক কাকে নিয়ে কাজ করবেন সেটা নিতান্তই তার ভাবনার বিষয়। যার সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান সহজ হবে, তাকে নিয়ে কাজ করতেই পারেন। তবে আমার মনে হয়, ভালো একজন নির্মাতা কাজের প্রয়োজনে নতুনদেরও সুযোগ দেবেন! নতুন শিল্পী যে তৈরি হচ্ছে না, তা না। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নতুন মানুষ আসছে। বলতে পারেন, অনেকে আসার জন্য চলে আসছে!

ওটিটি মাধ্যমটিকে কেউ আশীর্বাদ, আবার কেউ সংস্কৃতি ধ্বংসের কারণ বলছেন। আপনি এই মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখছেন?

একটি শিল্পের প্রকাশ মাধ্যম বাড়লে সেটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত। তবে সেই মাধ্যমটিকে অস্তিরভাবে যেন ধ্বংস না করে ফেলি, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। যদি আমরা ভালো কাজ এখানে প্রকাশ করতে পারি, তবে নিশ্চয় আশীর্বাদ হয়েই মাধ্যমটি ধরা দেবে।

কিন্তু শুরু থেকেই নেতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি নিজেস্ব কোনো প্লাটফর্ম এখনো দাঁড়াতে না পারার কারণ কী বলে মনে করছেন?

নতুন একটি মাধ্যম এলে সেটার সঙ্গে পরিচিত হতে সময় দিতে হবে। সবাই তো দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা করছে। আমাদের নির্মাতারা কিন্তু ভালো ভালো কনসেপ্টে বেশকিছু কাজ এরইমধ্যে উপহার দিয়েছেন। আশা করছি, শিগগিরই ভালো একটা অবস্থানে আমরা চলে যাবো।

সংকটের ভেতর দিয়ে চলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

কিছুদির আগেও চলচ্চিত্র আমাদের হতাশায় ফেলে দিয়েছিল। তবে অতি সম্প্রতি বেশকিছু ভালো কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। এছাড়া হল সংকটের বিষয়েও নানা পদক্ষেপের কথা শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।