রংপুরের পল্লিতে সফল ড্রাগনচাষি শামীমা

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ২১:৫১

রংপুরের নিভৃত পল্লিতে কৃষক পিতার অনুপ্রেরণা থেকে মাত্র ৫০ শতক জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন শামীমা আক্তার। জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের প্রকৌশলী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফরিদ আলমের স্ত্রী শামীমা। তিনি রংপুরে প্রথম নারী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেন। ইতিমধ্যেই ড্রাগন ফলের বাগান থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে প্রায় ১০০ কেজি ফল বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আয়ও করেছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম রহিমাপুর খানসাহেবপাড়া গ্রামের আলহাজ শামসুল কাদের সরকারের কন্যা শামীমা আক্তার। শামসুল কাদেরও একজন সফল কৃষক ছিলেন।  তিনি তার জমিতে মাছ, লিচু, কলা, আদা চাষ করেন। তিনি আদা চাষ করে পুরস্কারও পেয়েছেন। পিতার সেই কৃষিকাজের অনুপ্রেরণায় শামীমা ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বসতভিটাসহ বিভিন্ন জায়গায় নানা প্রজাতির ফুল, ফল ও ওষুধি গাছের চারা লাগাতেন। এরপর ১৯৯৫ সালে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে গিয়ে         বাড়ির ছাদে নানা রকম ফলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ওষুধি গাছের চারা লাগান। শামীমা ভিয়েতনামে ভ্রমণে গিয়ে সুস্বাদু ড্রাগন ফল খেয়ে তার গ্রামের বাড়িতে ড্রাগন ফল চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বাংলাদেশ স্কাউট পরিচালক মমতাজ আলীর কাছ থেকে ও বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। পিতা শামসুল কাদের সরকারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০১৬ সালের শেষ দিকে তার ৫০ শতক জমিতে ৮০০টি  ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন।

নারী উদ্যোক্তা শামীমা জানান, ড্রাগন ফলের পাশাপাশি ৬০ শতক জমিতে তিনি মাল্টা চাষ করেছেন। ড্রাগন ফলের প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত ফল ধরে। ওজনে একটি ফল ৬০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলের প্রতি কেজি বাজার মূল্য ৬০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। শামীমা জানান, ব্রাঞ্চ কেটে মাটিতে লাগালেই এ গাছ বাড়তে থাকে। পাতাবিহীন হওয়ায় পোকামাকড়ের তেমন আক্রমণ হয় না। এক-দুইবার জমিতে সার দেওয়া ছাড়া তেমন একটা পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।

 রংপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, ড্রাগন চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এতে খরচ কম লাভ বেশি।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, ড্রাগন চাষে কৃষকদের উত্সাহ দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।