এক মাসে আরো ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরো ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ১৩ হাজার ৩২ জনের। সংক্রমণের বিস্তার রোধে লকডাউনের মধ্যেই গত ১১ মে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা ১২ হাজার পেরিয়েছিল। তার সঙ্গে আরো ১ হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল এক মাস। মধ্যে কিছুদিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও জুনের শুরু থেকে তা ৩০ থেকে ৪০ এর ঘরে ঘোরাফেরা করছে।
গত এক দিনে আরো ২ হাজার ৪৫৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে এক দিনে আরো ২ হাজার ২৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন; এ পর্যন্ত সুস্থ মোট হয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন। গত বছর মার্চে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে ঢাকার পরিস্থিতিই সবচেয়ে খারাপ ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেলটার সামাজিক বিস্তার বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটায় রাজশাহী ও খুলনার ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে যেখানে ৪৮০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, সেখানে রাজশাহী বিভাগে পাওয়া গেছে ৬৮২ জন নতুন রোগী। খুলনায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৫৯৯ জনের মধ্যে। একক জেলা হিসেবে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৩৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। এই সময়ে ঢাকা জেলায় ২৮৫ জন, খুলনা জেলায় ১৫৬ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ১২৯ জন, যশোর জেলায় ১২৮ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ১১১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫১০টি ল্যাবে ১৮ হাজার ৭৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৩টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯২টি; বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮১টি। ঢাকা বিভাগে দৈনিক শনাক্তের হার ৫.৭ শতাংশে নেমে এলেও রাজশাহী বিভাগে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে। খুলনা বিভাগে তা সামান্য কমে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। জেলাওয়ারি হিসেবে এদিন বাগেরহাটে শনাক্ত রোগীর হার ৪৩ শতাংশ, খুলনায় ৩৬ শতাংশ, যশোরে ৩২.৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৩ শতাংশ আর ঢাকায় ৪ শতাংশের কিছু বেশি। শনাক্ত রোগীর সংখ্যার মতো মৃত্যুর সংখ্যাতেও শুক্রবার এগিয়ে আছে রাজশাহী বিভাগ। গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১১ জনই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। ১০ জন ছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া আট জন ঢাকা বিভাগের, সাত জন খুলনা বিভাগের, দুই জন বরিশাল বিভাগের, চার জন রংপুর বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩০ জন পুরুষ আর নারী ১৩ জন। তাদের ৩৬ জন সরকারি হাসপাতালে, ছয় জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা গেছেন এক জন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চার জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, দুই জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং দুই জনের ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।
