রাজশাহীতে পুলিশের বিরুদ্ধে দুই প্রকৌশলীকে হেনস্তার এবং উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলার বাগমারায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা হলেন—শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী প্রকৌশলী সুমন রানা (৩৮) এবং জেলার বাগমারা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)। তবে দুই প্রকৌশলীকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
প্রকৌশলী সুমন রানা অভিযোগে জানান, বাগমারায় সৈয়দা ময়েজ উদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে চার তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ছিল বৃহস্পতিবার। এ কারণে ঐ দিন সকাল সাড়ে ৭টায় তিনিসহ প্রকৌশলী মিজান একটি প্রাইভেট কারে রাজশাহী থেকে বাগমারার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঢালাইয়ের কাজ শেষে রাজশাহী ফেরার সময় নওহাটা ব্রিজের কাছে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পবা থানার এএসআই ওলিউল আলম তাদের গাড়িটি আটক করেন।
তিনি আরো জানান, এরপর ঐ পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ি থেকে তাদের নেমে আসতে বলেন। তারা গাড়ি থেকে নামলে লকডাউনের সময় গাড়ি নিয়ে রাজশাহীর বাইরে কেন, জানতে চান। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী পরিচয় দিলে তিনি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং থানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হন। এ পর্যায়ে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর পরেও এএসআই ওলিউল আলম তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করতে থাকেন। আধাঘণ্টা পর আমাদের ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তার দপ্তরের দুই জন প্রকৌশলীকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আটক করেছিল পুলিশ। এ সময় ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি ফোন দিয়ে দুই প্রকৌশলীকে ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা অসদাচরণ করেন। লকডাউনের সময়েও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান থাকবে বলে সরকারিভাবে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এর পরেও ঐ পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনরত দুই জন প্রকৌশলীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পবা থানার ওসি (তদন্ত) বানী ইসরাইল বলেন, দুই প্রকৌশলীকে হেনস্তা বা তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ সঠিক নয়। তাদেরকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওসি তদন্ত।
