বাহুবলে গ্যাসফিল্ডের বিকট শব্দ ও কৃত্রিম ভূকম্পনে আতঙ্ক

আপডেট : ১১ জুন ২০২১, ২২:১২

বাহুবলে সিলেট গ্যাসফিল্ডের ‘ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটের’ যন্ত্রপাতির বিকট শব্দ ও কৃত্রিম ভূকম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ভূকম্পনের কারণে গ্রামগুলোর বাড়িঘরে দেখা দিয়েছে ফাটল। রাতে শব্দ ও ভূকম্পনের মাত্রা বেড়ে গেলে আতঙ্কও বৃদ্ধি পায়। গ্রামবাসী জানান, দিনরাত বিকট শব্দ ও ভূকম্পনের কারণে শিশুদের মধ্যে নানা মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গ্রামবাসী জানান, বাহুবল উপজেলার রশীদপুরের বড়গাঁও এলাকায় অকটেন উত্পাদনকারী কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্টের ‘ক্যাটালাইটিক রিফরর্মিং ইউনিট’ গত বছরের শেষার্ধে চালু করা হয়। চালু করার পর থেকে যন্ত্রপাতির শব্দ স্বাভাবিক মাত্রায় ছিল। কিন্তু গত ৮ এপ্রিল সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ‘ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটে’ শব্দের মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করে। পাশাপাশি ইউনিটের আশপাশের এলাকায় ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়। ২৪ ঘন্টাই ‘ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট’ চালু থাকার কারণে শব্দ ও ভূকম্পনও স্থায়ী থাকে। এ কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা-পাকা বাড়িঘরে। বিকট শব্দ ও ভূকম্পনের প্রভাব আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে অনুভূত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হচ্ছেন বড়গাঁও, শাহানগর, রশীদপুর, অলিপুর, চক্রামপুর, শফিয়াবাদ ও সাহাপুরের মানুষ।

স্থানীয় ভাদেশ্বর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান বলেন, ‘প্ল্যান্টের এই শব্দ ও ভূকম্পনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিলেও এখনো তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ এ ব্যাপারে গত ২৭ মে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিষদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নীগ্ধা তালুকদার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে গ্রামবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর ঢাকা থেকে একটি বিশেষ কারিগরি টিম আগামী সপ্তাহে ঘটনাস্থলে পাঠনো হবে বলে জানানো হয়েছে।’ এ ব্যাপারে সিলেট গ্যাসফিল্ডের আওতাধীন ‘ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট’ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সোমবার প্রকল্প পরিচালকের মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।