সচ্ছলতা ফেরায় বিধবার প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ২২:১৯

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

সংসারে সচ্ছলতা ফেরায় বিধবা ভাতার কার্ডটি সমাজসেবা অফিসে ফেরত দিয়ে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের লাজিনা বেওয়া নামের এক বিধবা নারী প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাতইর গ্রামের মৃত হাদিস আলীর স্ত্রী।

লাজিনা বেওয়া জানান, ১৯৮২ সালে মাত্র ১০ শতাংশ সম্পত্তি রেখে স্বামী হাদিস আলী মারা যান। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিধবা হন তিনি। ছোট দুটি মেয়ে ও ছয় মাস বয়সি ছেলে মামুনুর রশিদ মামুনকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ছেলেমেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে ১৯৯৮ সালে বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হোন। অনেক কষ্ট করে মেয়ে দুটিকে বিয়ে দেন। এদিকে ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন পড়াশোনা শেষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৪ সালে সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দুই বছর পর দেশে ফিরে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পান। এতে তার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন তিনি কার্ডটি ফেরত দেবেন। তার যুক্তি ছিল, এখন অন্য কোনো অসচ্ছল বিধবা এই কার্ডটি পেলে তিনি উপকৃত হবেন। সেই মোতাবেক সম্প্রতি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তার ছেলে মামুনুর রশিদ কার্ডটি ফেরতের আবেদনসহ কার্ডটি জমা দেন।

ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবাই যখন পেতেই ব্যস্ত তখন তিনি ফেরত দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তার ইউনিয়নে আগে এভাবে কেউ কার্ড ফেরত দেয়নি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দীন জানান, এ উপজেলায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। প্রয়োজন ছাড়া কোনো কিছু নেওয়া ঠিক নয়।