ইত্তেফাক রিপোর্ট
সব রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শ্রেণিভিত্তিক ভ্যাট আরোপের দাবি জানিয়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে চার ও পাঁচ তারকা হোটেল-রেস্তোরাঁর ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ রেখে বিদেশি খাবার বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ এবং নিম্ন ও মাঝারি মানের রেস্তোরাঁ এবং স্ট্রিট ফুডের জন্য ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাকক্ষে প্রস্তাবিত বাজেটপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় সমিতির সভাপতি ওসমান গনি, মহাসচিব ইমরান হাসান, প্রথম যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিব, প্রধান উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া, শিল্পকারখানার ক্যান্টিন ও হোস্টেলের খাবারের ওপরে ভ্যাটের হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে বিভিন্ন শ্রেণির হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে। তাদের ব্যাবসায়িক পরিধিও একেক রকম। কিন্তু সার্বিকভাবে ১৫% ভ্যাট যুক্তিযুক্ত নয়। ভ্যাটের হার বেশি হওয়াতে অনেকে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তারা বিপদে পড়ছেন বেশি। তাদের খাবারের দাম বেশি হওয়ায়, যারা ভ্যাট দিচ্ছে না তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে এ কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা সম্পূরক কর ১০% বাতিল এবং চালুকৃত টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে বহিঃর্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ এবং একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নপূর্বক তাদের নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানানো হয়।
সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসগুলো স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তা এই হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে আরো ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের কারণে এ খাতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি তারা বড়দের প্রমোশন করায় ছোটরা পিছিয়ে পড়ছে। এদিকে করোনা সংকট মোকাবিলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয় মাসের প্রণোদনা চাওয়া হয়। করোনার সময় অর্ধেক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে জানিয়ে তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রণোদনা প্রদান অথবা জুলাই ২০২১ইং থেকে ডিসেম্বর ২০২১ইং পর্যন্ত কর্মচারীদের করোনাকালীন মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করতে বলা হয়েছে।
