অস্ত্র যখন এলবিডব্লিউ

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ২২:৩০

স্পোর্টস রিপোর্টার

পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে নতুন নয়। গত সাত-আট বছরে যেটি রীতিমতো চরম আকার ধারণ করেছে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগেও দুর্বল আম্পায়ারিং বিদ্যমান। যার শিকার হচ্ছে বিসিবির ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থাকা ক্লাবগুলো। বোর্ড পরিচালকদের দাপটে মাঠে নির্দিষ্ট ক্লাবের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন আম্পায়াররা।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আম্পায়াররা বিতর্কিত আউট দিচ্ছেন এলবিডব্লিউয়ের মাধ্যমে। এলবিডব্লিউকে নিরাপদ অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। ক্ষমতাশালী ক্লাবের বিপক্ষে এলবির আবেদনে চুপ থাকা, বাইরের ক্লাবগুলোর ব্যাটসম্যানকে পায়ে বল লাগা মাত্রই এলবিডব্লিউ দিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠানোর কাজ বন্ধ হচ্ছে না।

গতকাল ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। চলমান প্রিমিয়ার লিগেও এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুিক এক ক্লাব কর্মকর্তা গতকাল বলেছেন, দেখেন আবাহনী এখন পর্যন্ত এবার লিগে ৭টি ম্যাচ খেলেছে। অথচ ওদের একজনও এলবিডব্লিউতে আউট হয়নি। গতকাল (১১ জুন) মুশফিকের বিরুদ্ধে সাকিব যে আবেদন করেছে এটা তো পরিস্কার আউট। আম্পায়ার দেয়নি বলেই সাকিব গরম হয়ে গেছে। ও বুঝতেছিল আউট দেবে না।

তিনি আরো বলেন, এদের একটা চক্র আছে। কয়েক জন আম্পায়ার আছে যারা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে মাঠে। এরা এলবিডব্লিউকে সহজ গন্তব্য মনে করে। এটাই ওদের টার্গেট। কারণ এলবি দিলে তো ওদেরও বলার কিছু থাকে। আবার না দিলেও বলতে পারে বল বের হয়ে যাচ্ছে। 

শুক্রবার আবাহনীর বিরুদ্ধে সাকিবের রাগে ফেটে পড়ার পেছনে বাজে আম্পায়ারিংকেই দুষছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। দুর্বল সিদ্ধান্তের শিকার হতে হতে খেলোয়াড়দের ভেতরে জমছে ক্ষোভ। যার বহিঃপ্রকাশই হয়েছে সাকিবের আচরণে।

অনেক বছর ধরে চলে আসা এসব কর্মকাণ্ড এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। যা খেলোয়াড়দের মানসিকতায় প্রভাব ফেলছে, ক্রিকেটকে কলুষিত করছে। সাকিবের ক্ষোভ প্রকাশকে তাই অনেকে প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন।

২০১৩ সালে আবাহনীর বিরুদ্ধে গাজী ট্যাংকের ৬ ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কয়েক বছর আগে দুর্বল আম্পায়ারিংয়ের অভিনব প্রতিবাদ করে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন লালমাটিয়া, ফেয়ার ফাইটার্সের দুই ক্রিকেটার। কিন্তু আম্পায়ারদের কিছুই হয়নি।