পাবনায় গণপূর্ত দপ্তরে অস্ত্র হাতে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ২২:৫০

পাবনায় গণপূর্ত বিভাগে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের একদল ঠিকাদার নেতার মহড়ার কথা জানিয়েছেন ঐ কার্যালয়ের কর্মীরা। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য এ নিয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে ক্ষমতাসীন দলের ঐ নেতারা লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে ওই দপ্তরে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, এটা তাদের ‘ভুল’ হয়েছে। ঘটনাটি গত ৬ জুন ঘটলেও সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ হলে তা আলোচনায় আসে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৬ জুন বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেনের পেছনে লাইসেন্স করা শটগান হাতে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু। ১২ সোয়া ১২টার দিকে             তারা ফিরে যান।

গণপূর্ত বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেন, ক্ষমতার প্রভাব বলয় তৈরি করে বিভিন্ন কাজের দরপত্র নিজেদের আয়ত্তে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন ক্ষমতাসীন দলের ঠিকাদার নেতারা। তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলেও কোনো হুমকি দেননি। যে কারণে থানায় কোনো অভিযোগও দেওয়া হয়নি। 

নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম  বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি অফিসের বাইরে ছিলাম। তবে সিসিটিভি ফুটেজে অস্ত্র হাতে অনেকে এসেছে দেখেছি। তারা আমাকে সরাসরি বা ফোনে কোনো হুমকি দেয়নি। কথাও হয়নি। তাই আমরা লিখিত অভিযোগ করিনি।’

সদলবলে গণপূর্ত বিভাগে যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন বলেন, এভাবে সেখানে যাওয়া আমাদের উচিত হয়নি। এ আর খান মামুন বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র নিয়ে আমি ব্যাবসায়িক কাজে ইটভাটায় যাচ্ছিলাম। পথে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে গণপূর্ত বিভাগে যাই। কিন্তু তিনি না থাকায় আমরা ফিরে আসি। তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। প্রতিপক্ষ ঠিকাদাররা বিষয়টিকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’ একই ধরনের কথা বলেছেন যুবলীগ নেতা শেখ লালু।

পাবনার পুলিশ সুপার মুহিবুল হক খান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পাবনার ডিসি কবীর মাহমুদও বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’