করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে না আসায় গত বছরের মতো এবারও হজের নিবন্ধন সীমিত করে রাখা হয়েছে সৌদি আরবের নাগরিক ও সেখানে বসবাসরতদের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশসহ দেশটির বাইরের কেউ এবারও হজ করতে সেখানে যেতে পারবেন না। সৌদি সরকার পরিচালিত প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এ বছর সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে বসবাসকারী মোট ৬০ হাজার মানুষ হজ পালন করতে পারবেন। ১৮ থেকে ৬৫ বয়সিদের মধ্যে যারা করোনার টিকা নিয়েছেন কেবল তারাই হজ পালন করতে পারবেন। আগামী ২০ জুলাই হজ হওয়ার কথা। গতকাল শনিবার সৌদি সরকারের সার্কুলারের বরাতে বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরও সৌদি আরবের বাইরের কোনো দেশ থেকে হজযাত্রীরা হজের সুযোগ পাবেন না। সৌদি আরবের নাগরিক এবং সৌদি আরবে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের মুসলিমদের নিয়ে সীমিত আকারে হজ পালিত হবে। ফলে বাংলাদেশ থেকে গত বছরের মতো এ বছরও কেউ হজে যেতে পারছেন না।
আরব নিউজ প্রতিবেদনে বলেছে, এবারের হজ নিয়ে প্রথম দিকে টিকা নেওয়া কিছু বিদেশিকে হজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সৌদি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু টিকার ধরন ও কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ এবং করোনার নতুন ধরনের বিস্তার বিবেচনায় সেই পরিকল্পনা বাদ দেওয়া হয়। বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে ২৫ লাখের বেশি মানুষ হজ পালন করতে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় যেতেন। এ থেকে প্রতি বছর ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার আয় হতো দেশটির। সারা বছর ওমরাহ পালন করতে গোটা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার মুসলমান সৌদি আরবে যান। গত বছর প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর অক্টোবরে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম খুলে দেওয়া হয়। এদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটি ২০২০ সাল নাগাদ ওমরাহ ও হজের জন্য আগত মুসল্লিদের সংখ্যা ২ কোটিতে উন্নীত করতে চেয়েছিল। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৩ কোটিতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল তারা। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ শুধু হজ থেকেই ৫০ বিলিয়ন রিয়াল (১৩ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার) আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু কোভিডের কারণে এই পরিকল্পনা বিঘ্নিত হচ্ছে।
