‘স্ত্রী জোবেদা খাতুন (২৮) পরকীয়ায় জড়িয়েছে, এমন সন্দেহ থেকেই তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছি।’ গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এমন কথা জানিয়েছেন জোবেদার স্বামী আবুল কাশেম। গতকাল দুপুরে কাশেমকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মোহাম্মদ সুমন মিয়া। এরপর আসামি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটারার সোলমাইদ পূর্বপাড়া কাজিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বামী কাশেম কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সন্দেহ থেকেই হাতের কাছে থাকা কুড়াল দিয়ে জোবেদার মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ জানায়, এই দম্পতির দুই সন্তান আছে। তারা কাজী বাড়িতে ভাড়া থাকত। তবে অভাব-অনটন ও অন্যান্য কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। সঙ্গে কাশেম সন্দেহ করেন তার স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনার দিন সকালেও ঝগড়া হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে কাশেম কুড়াল দিয়ে স্ত্রীকে আঘাত করেন।
এ সময় কাশেমকে আশপাশের বাসিন্দারা আটক করে এবং পুলিশে খবর দেয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়, কুড়ালটি জব্দ করেছে পুলিশ। ঐ ঘটনায় জোবেদার ভাই আবুল হাসেম আকন্দ ভাটারা থানায় হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় পুলিশ কাশেমকে গ্রেফতার দেখিয়েছে।
