ভূমিকম্প

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২০:৩১

মাধব রায়

কথাসাহিত্যিক-সহকারী অধ্যাপক

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

 

গতকালের পর

হ্যাঁ, সব প্লেটের বাউন্ডারিতে নিয়মিত ধাক্কাধাক্কি চলতে থাকে। তাই ঐ সমস্ত জায়গায় নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়। আকাশ বলল— তাহলে তো আগ্নেয়গিরির আশেপাশের লোকজন খুব ঝুঁকির মধ্যে আছে। হ্যাঁ। ভূকম্পন পৃথিবী  পৃষ্ঠের কতটুকু গভীরে উত্পন্ন হতে পারে ?

প্রায় ১৬ কি.মি. গভীরে— বললেন তানভীর সাহেব। তবে ৭০০ কি.মি. গভীরে গুরুমণ্ডল থেকেও ভূকম্পন সৃষ্টি হতে পারে। যে স্থান থেকে কম্পন উত্পন্ন হয়, তাকে ভূমিকম্পকেন্দ্র বা এপিসেন্টার বলে। আকাশ ভাবল কম্পনে তো শব্দ সৃষ্টি হয়, তাহলে নিশ্চয়ই ভূমিকম্পে শব্দ সৃষ্টি হয়, তাহলে আমরা এই শব্দ শুনতে পাই না কেন। সে প্রশ্ন করল, ভূমিকম্পে কী ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়? তানভীর সাহেব বললেন— ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে দুই ধরনের তরঙ্গ বের হয়। একটা তরঙ্গ শব্দের মতো। মাটির ভিতর দিয়ে সেটা দ্রুত চলে আসে। এই তরঙ্গের নাম প্রাইমারি ওয়েভ বা পি-ওয়েভ, দ্বিতীয়টির নাম সেকেন্ডারি ওয়েভ বা এস-ওয়েভ। এটি হচ্ছে সত্যিকারের কম্পন। আমরা এস-ওয়েভই অনুভব করি। এস-ওয়েভ পি-ওয়েভ থেকে সেকেন্ডে দশ কিলোমিটার কম বেগ নিয়ে চলে। পি-ওয়েভের কত সময় পর এস-ওয়েভ পাওয়া গেল সেটি হিসাব করে ভূমিকম্পের কেন্দ্র কত দূরে সেটি বোঝা যায়।

কীভাবে ? যেমন ধর পি-ওয়েভ আসার দশ সেকেন্ড পর এস-ওয়েভ পাওয়া গেল। তাহলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র মোটামুটি একশ কিলোমিটার দূরে। আকাশ বলল— আমরা  ভূমিকম্পের শব্দ শুনতে পাই না কেন? আনজুম বললেন— ভূমিকম্পের কম্পাংক ২০ কিলোহার্টজ এর চেয়ে বেশি, তাই শুনতে পাই না। মানুষ তো ২০ থেকে ২০ কিলোহার্টজ এর শব্দ শুনতে পায়।

নীলকান্তবাবু বললেন— আমাদের সিলেট তো ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে অবস্থিত। তানভীর সাহেব সায় দিয়ে বললেন—ঠিকই বলেছ। বুয়েটের গবেষকগণ এলাকাভিত্তিক ভূমিকম্পের সম্ভাব্যতার যে মানচিত্র তৈরি করেছেন, এতে দেখা যায় বাংলাদেশের ৪৩% এলাকা ভূমিকম্পের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এর নাম জোন—1, ৪১% এলাকা মধ্যম ধরনের ঝুঁকিতে, এর নাম জোন— 2। আর ১৬% এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে, এর নাম জোন— 3।

সিলেট কি জোন— 1এ ? প্রশ্ন করলেন কমলা।

হ্যাঁ, বললেন তানভীর সাহেব। সিলেট ছাড়াও পঞ্চগড়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জোন—1 এর আওতায়। আবার ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের অংশবিশেষও এই জোনের অন্তর্গত। চন্দ্রা ইতোমধ্যে এখানে এসে দাঁড়িয়েছিল, সে আঁতকে উঠে বলল— আমাদের কক্সবাজারও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে?

তানভীর সাহেব মাথা নাড়লেন, যে কোনও সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। জোন—2 কোন কোন জায়গা আঙ্কেল? চন্দ্রা বলল। জোন—2 হলো রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, মেহেরপুর, কুমিল­া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেণী এবং ঢাকা। আর জোন—3 হলো বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সবগুলো দ্বীপ ও চরাঞ্চল। কমলা বললেন—কিন্তু আমাদের সিলেট কেন জোন—2 এর মতো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে? নীলকান্তবাবু বললেন— সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ভারতের শিলংকে বিভক্ত করেছে ডাউকি নদী। আর এই নদী ডাউকি ফল্ট বরাবর অবস্থিত। সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের ফল্টগুলোর কোনও কোনওটিতে সাবডাউন ফল্ট রয়েছে। ফলে সিলেট খুবই ঝুঁকির মধ্যে।