তালেব রানা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক করবেন বিশ্বের শীর্ষ দুই সামরিক ক্ষমতাধর দেশের সরকারপ্রধান।
দুই নেতা এমন সময় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যখন বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুরোনো। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শাস্তিস্বরূপ গত এপ্রিলে রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট বাইডেন পুতিনকে খুনি বলে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায় রাশিয়া। এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে মস্কো থেকে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনা হয়। বিভিন্ন সময়ে রাশিয়া থেকে মার্কিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার অভিযোগ করে আসছে ওয়াশিংটন। এছাড়া বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার তত্পরতা এবং দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র কড়া সমালোচনা করছে।
বৈঠকের আগে দুই নেতা তাদের বিরোধপূর্ণ অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করেছেন। আট দিনের ইউরোপীয় সফরে গত বুধবার ব্রিটেনে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সরকার যদি ক্ষতিকারক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও সমুচিত জবাব দেবে। বাইডেন পরিষ্কার করতে চেয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছে এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো এক হয়ে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে।
হোয়াইট হাউজ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাইডেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা, রাশিয়ার সাইবার-হ্যাকিং কার্যক্রম এবং রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী অ্যালেক্সেই নাভালনিকে কারাগারে পাঠানোর মতো বড় বড় ইস্যুতে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তবে এর বেশির ভাগ ইস্যুকেই পাত্তা দিতে নারাজ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি আশা করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শুক্রবার দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছে। গত এপ্রিলে পুতিন পশ্চিমের দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা রাশিয়াকে ‘খোঁচাচ্ছে’। তিনি তাদের ‘বিপত্সীমা’ অতিক্রম না করার বিষয়ে সতর্ক করে দেন।
সম্প্রতি পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। একটি মাত্র বৈঠকে তেমন কোনো সমাধান আসবে না। আসলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আলোচনার বিকল্পও নেই। ভবিষ্যতে সম্পর্ক যাতে আরো খারাপ না হয়, সেজন্য আমাদের মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার।’ যদিও তিনি বলেন, এই বৈঠক দুই প্রেসিডেন্টের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরার ভালো সুযোগ হতে পারে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাইডেনের ইউরোপ সফর শেষ হবে। এই বৈঠকের ওপরও নির্ভর করছে বাইডেনের প্রথম বিদেশ সফরের সফলতা। কিন্তু এ অবস্থায় দুই নেতার প্রথম বৈঠকের পরিবেশ কেমন হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।
মার্কিন একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন-পুতিন প্রথম বৈঠকের পরিবেশ আন্তরিক নাও হতে পারে। বরং স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কলহপ্রিয় পরিবেশ দেখা যেতে পারে এই বৈঠকে। ইতিমধ্যে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, সাইবার হামলা, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন-পীড়ন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতি নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন বাইডেন। অন্যদিকে পুতিন তাঁর অবস্থান ও আচরণ বদলানোর কোনো আগ্রহ এখনো দেখাননি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বিবাদমূলক হলে তা আশ্চর্যের কিছু হবে না।
