গত দশকে বাংলাদেশে অবকাঠামো খাতে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলো শেষ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপ্লব সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ২৫তম বড় অর্থনীতির দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলছে বিপুল উদ্যমে। তবে সেই দুর্বার অগ্রযাত্রায় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজন মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা চালানো। তা না করা হলে হোঁচট খাবে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন।
বাংলাদেশ বড় দুটি শিল্পের ওপর নির্ভর করে এখন আগাচ্ছে। একটি হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প ও আরেকটি বৈদেশিক রেমিট্যান্স। দুটি শিল্পের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাওয়া যায়, শিল্প দুটিতে শিক্ষিত এবং দক্ষ শ্রমিকের অভাব। বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই। সেই মানবসম্পদ উন্নয়নে এখনো বাংলাদেশ পিছিয়ে। এক্ষেত্রে আমরা যদি চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ হালের তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের দিকে তাকাই, এক সময় তারাও আমাদের মতো অবস্থায় ছিল । কিন্তু তারা অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছে। তাদের উন্নত হওয়ার পেছনে এক সময় সস্তা শ্রমিক ভূমিকা রাখলেও ধীরে ধীরে তারা হাইটেক প্রযুক্তির দিকে এগিয়েছে। সেখানে দরকার হয়েছে উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মীর।
বাংলাদেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের মতো বড় বড় প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করবে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দক্ষ লোকবলের দরকার হবে। সেই চাহিদার জোগান দিতে না পারলে প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলঙ্কার দক্ষ মানবসম্পদকে চাকরি দিতে হবে, যা কি না আদতে দেশের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই এখনই সময় অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা। প্রাথমিক শিক্ষাতে আরো জোর দেওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরাও কিছু না কিছু করার সুযোগ পাবে। আর যারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে না তারাও বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে চাকরি নিশ্চিত করতে পারবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশকে বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করা একটা ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতাগুলোকে জোর দেওয়া উচিত। এর ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অন্যদের টেক্কা দেওয়া সম্ভব হবে।
হাইটেক শিল্পগুলোতে যথাযথ দক্ষ লোকবল তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়োগিক বিদ্যার যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিদেশে স্থায়ী হওয়া গবেষকদের বাংলাদেশে আনার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। গবেষণা ছাড়া বাংলাদেশ এগোতে পারবে না।
বাংলাদেশেকে উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে এখনই পদক্ষেপ না নিলে প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। তাই সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত হবে এখনই এই খাতকে নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া।
n লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
