মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
পার্সোনাল কম্পিউটিং ডিভাইস হিসেবে অ্যাপলের ম্যাক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার অবকাশ নেই। কিন্তু অনেকেই ম্যাক ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক ছোটখাট বিপাকে পড়েন। এসব সমস্যারও রয়েছে সহজ সমাধান।
আবার এমন ছোটখাট কিছু ট্রিকস রয়েছে, যা ম্যাকে বাড়তি অনেক সুবিধা যোগ করে দিতে পারে।
মোবাইলের গেম টিভিতে প্রদর্শন
আইপ্যাড এবং আইফোনের গেম অ্যাপল টিভি বক্সে এবং এয়ারপ্লের মাধ্যমে টিভিতে উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাত্ আপনি খেলবেন আইপ্যাড এবং আইফোনে; কিন্তু আপনার ডিসপ্লে থাকবে আপনার টিভির স্ক্রিন। এই বিশেষ সুযোগটি গ্রহণ করার জন্য থাকবে ইয়োসেমিটি বা এর পরের সংস্করণের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম, আইওএস ৮ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের আইফোন বা আইপ্যাড এবং ইউএসবি কানেক্টর। এগুলো থাকলেই ডিভাইসকে ইউএসবি কানেক্টরের মাধ্যমে টিভি বক্সের সাথে সংযুক্ত করে বা এয়ারপ্লের মাধ্যমে টিভিতে সংযুক্ত করে নিলে টিভির স্ক্রিন হয়ে উঠবে আপনার গেমের ডিসপ্লে; আর তার কন্ট্রোলার হবে আইফোন বা আইপ্যাড।
এই সুবিধাটি উপভোগ করার জন্য প্রথমেই ম্যাকে আইওএস ডিভাইস সংযুক্ত করে নিতে হবে। এরপর কুইকটাইম প্লেয়ারের ফাইলে গিয়ে সিলেক্ট করতে হবে ‘নিউ মুভি রেকর্ডিং’ অপশনটি। এটি করলেই কুইকটাইম ম্যাকের আইসাইট বা ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করার অপশন দেবে। এখানে কন্ট্রোলারের রেকর্ড বাটনের পাশে ছোট ডাউন অ্যারোতে ক্লিক করলে আইওএস ডিভাইসের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন নির্বাচন করে দেওয়া যাবে। রেকর্ড অপশন আসলেও কোনোকিছু রেকর্ড করার দরকার। এই অবস্থায় আইওএস ডিভাইসে গেম খেলতে শুরু করলেই সেটি প্রদর্শিত হতে থাকবে টিভির বড়পর্দায়।
ম্যাকে উইন্ডোজ সফটওয়্যার
উইন্ডোজ আর ম্যাকের সফটওয়্যার আলাদা। উইন্ডোজের কোনো সফটওয়্যার ম্যাকে চালানোর কোনো সুযোগ এতদিন ছিল না। এই সুযোগটি করে দিতেই এগিয়ে এসেছে ক্রসওভার ম্যাক। ওয়াইন প্রকল্পের বাণিজ্যিক এই সংস্করণ লিনাক্স, উইন্ডোজ এবং ম্যাকে ব্যবহূত সফটওয়্যার ও অ্যাপসগুলোর একটি সমন্বয় করেছে। এটি ব্যবহার করতে অবশ্য ৩৮ ইউরো খরচ করতে হবে। তবে বিনামূল্যে ১৪ দিনের একটি ট্রায়াল ভার্সন ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। www.codeweavers.com/products/crossover-mac ঠিকানায় গেলেই পাওয়া যাবে উইন্ডোজের বিভিন্ন সফটওয়্যার বা অ্যাপস ম্যাকে ব্যবহারের সুযোগ।
ফেসবুক থেকে কনটাক্ট ফটো যুক্ত করা
ফেসবুকে বা টুইটারে সাইন-ইন করা থাকলে সেসব নেটওয়ার্কের প্রোফাইল ছবিগুলো যুক্ত করা যাবে আইক্লাউড অ্যাড্রেস বুকে। এর জন্য অ্যাপল ডিভাইসে সোস্যাল নেটওয়ার্কে সাইন-ইন করে রাখতে হবে। এরপর ম্যাকের সিস্টেম প্রিফারেন্সে গিয়ে ক্লিক করতে হবে ইন্টারনেট অ্যাকাউন্টসে। এখানে বাম দিক থেকে নির্বাচন করে দিতে হবে সাইন-করা ফেসবুক বা টুইটারের অ্যাকাউন্ট। এরপর আপডেট প্রোফাইল ফটোজে ক্লিক করলেই সোস্যাল নেটওয়ার্কের প্রোফাইল ছবিগুলো সেভ হয়ে যাবে আইক্লাউডের কন্টাক্ট লিস্টে।
ম্যাকে অ্যান্ড্রয়েড গেমস এবং অ্যাপস
অ্যান্ড্রয়েডের অনেক গেম এবং অ্যাপসই রয়েছে, যেগুলো চাইলেও ম্যাক ব্যবহারকারীরা খেলতে পারেন না। তবে ম্যাকে জিনিমোশন ইন্সটল করে নিলে ম্যাককে পরিণত করা যাবে ভার্চুয়াল অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবে। আর তাহলে ম্যাকেও খেলতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েডের গেম, চালাতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপস। এর জন্য প্রথমেই জিনিমোশন ইনস্টল করে নিতে হবে ম্যাকে। এরপর জিনিমোশন টুলবারের ‘অ্যাড’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ডিভাইস মডেলের ড্রপডাউন লিস্টে ক্লিক করতে হবে কাস্টম ট্যাবলেট। সেখানে গিয়ে 4.3-API 18-2560 X 1600 নির্বাচন করে দিতে হবে। এটি করলেই ম্যাকে ইমুলেটেড সেটআপ হয়ে যাবে। তবে ম্যাককে সম্পূর্ণ অ্যান্ড্রয়েডে রূপান্তর করতে আরও কিছু কাজ করতে হবে। এর জন্য ইমুলেটেড সিস্টেমের লিস্ট থেকে থেকে বুট করতে হবে। এরপর ইমুলেটেড অ্যান্ড্রয়ড ট্যাবলেটে ডাবল ক্লিক করলে একটি লিস্টে প্রবেশ করবে এবং স্ক্রিন আনলক হবে। তারপর ম্যকের এআরএম ট্রান্সলেশন সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। এরপর জিপ ফাইলটি ডাউনলোড কার ইমুলেটেড প্রোগ্রামের ওপর ড্রপ করে তারপর ‘ওকে’ বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং ইনস্টল করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় একটি ডায়লগ বক্স প্রদর্শিত হলে তা বন্ধ করে ইমুলেটেড ট্যাবলেটটি রিস্টার্ট করে নিতে হবে। ম্যাক চালু হওয়ার পর গুগল অ্যাপস জিপ ডাউনলোড করে পুনরায় ইমুলেটেড ট্যাবলেটের উইন্ডোতে ড্রপ করতে হবে। এরপর আবারও রিস্টার্ট করার পর ম্যাক অন হলে নতুন ডিভাইস সেটআপের নির্দেশনা আসবে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিতে পারবেন যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড গেম কিংবা অ্যাপস।
ম্যাক থেকে হারিয়ে যাওয়া ফাইল পুনরুদ্ধার
ম্যাক ঠিকঠাকমতো কাজ না করলে বা বুট না করলে বা কোনো কারণে ক্ষতির শিকার হলেও হার্ডডিস্কটি অক্ষত থাকলে ভয়ের কিছু নেই। ম্যাকের হার্ডডিস্কে সংরক্ষিত সব ফাইলই পুনরুদ্ধার করা যাবে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্থ ম্যাকটি চালু করতে হবে। স্টার্ট বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনা ‘T’ বাটনটি চেপে ধরে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ পর অপারেটিং সিস্টেম টার্গেট ডিস্ক মোডে বুট হবে। তখন ফায়ারওয়্যার অথবা থান্ডারবোল্ট ক্যাবলের মাধ্যমে অন্য একটি ম্যাককে সংযুক্ত করে দিতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যাকের সাথে। এতে করে নতুন যে ম্যাকের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যাককে সংযুক্ত করা হয়েছে, সেই নতুন ম্যাকে তার নিজের হার্ডডিস্কের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ম্যাকের হার্ডডিস্কের ড্রাইভগুলোও দেখা যাবে। অর্থাত্ এক্সটার্নাল একটি স্টোরেজের মতো আচরণ করবে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যাকের হার্ডডিস্ক। এরপর ওই হার্ডডিস্ক থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো সরিয়ে নেওয়া যাবে খুব সহজেই।
ম্যাকে ইংরেজি শিক্ষা
ম্যাকের অ্যাপ্লিকেশন তালিকায় একটি ডিকশনারি রয়েছে, যা অনেক সমৃদ্ধ। ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য এই ডিকশনারি অনেকটাই সহায় হতে পারে। সেইসাথে ইংরেজি সম্পর্কে জানার জন্যও এই ডিকশনারি কাজে দেবে। এই ডিকশনারির ভূমিকাতেই রয়েছে ডিকশনারিটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে। ইংরেজি ব্যাকরণের বিভিন্ন অংশ, বাক্য বা শব্দ গঠনের নিয়ম প্রভৃতি বিষয়ও আলোচনা করা হয়েছে এই অংশে। এই অংশটি তাই সঠিকভাবে পাঠ করলে ইংরেজি শেখার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর জন্য ডিকশনারি অ্যাপ্লিকেশন চালু করে ‘গো’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এখান থেকে ‘ফ্রন্ট/ব্যাক ম্যাটার’ নির্বাচন করে দিতে হবে। তাহলেই চলে আসবে ইংরেজি ডিকশনারি ও ভাষা সম্পর্কিত বিভিন্ন সমৃদ্ধ তথ্য।
