সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
ইউরো ফুটবল একজন এরিকসেনেই কেঁপে উঠল। টুর্নামেন্ট মাত্র শুরু হতে না হতেই দুই দিনের মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন সব ফোকাস নিয়ে গেলেন। মাঠে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডে। এখন ভালো। অবস্থা খুব একটা খারাপ না হলেও ইউরোর দর্শক আপাতত স্বস্তি নিতে পারে। ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন উয়েফাকে জানিয়েছে, এরিকসনে আগের চেয়ে ভালো। এরই মধ্যে এরিকসেন নিজে তাঁদের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপে কথাও বলেছেন। শনিবার রাতে ডোনমার্কের রাজধানী কোপেন হেগেনে পারকিনসন স্টেডিয়ামে ইউরো কাপে বি গ্রুপে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক মুখোমুখি হয়।
খেলা চলাকালীন ৪৩ মিনিটে বল ছাড়াই হাঁটতে হাঁটতে হঠাত্ মিডফিল্ডার এরিকসেন মাঠে লুটিয়ে পড়েন। মাঠেই হার্ট অ্যাটাক হয় এরিকসেনের। প্রায় পাঁচ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ ছিল। সাড়া-শব্দ না পেয়ে অন্য ফুটবলাররা কাঁদতে শুরু করেন। কাঁদছিল গ্যালারির দর্শকও। ডাক্তাররা সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ঢুকে চিকিত্সা দিতে শুরু করেন এবং এরই মধ্যে স্টেডিয়ামের কাছের রিগস হাসপাতাল থেকে হার্টের ডাক্তার এসে মাঠে ঢুকে চিকিত্সা দিতে পারায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন ২৯ বছর বয়সি এরিকসেন। মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুহূর্তেই এরিকসেনের অসুস্থ হওয়ার খবরটা ফুটবল দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায়। তার জন্য ফুটবলাররা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।
এরিকসেনের সুস্থতার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম। ডেনমার্ক থেকে প্রিন্স উইলিয়ামকে জানানো হয়েছে এরিকসেন এখন ভালো আছেন। তাঁর খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রিন্স উইলিয়াম একটি টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘এটা খুবই ভালো খবর। উত্সাহব্যঞ্জক খবর। আমরা সবাই এরিকসেন ও তার পরিবারের জন্য চিন্তায় আছি। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাই তাঁরা দক্ষ চিকিত্সা দিতে পারায়।’
ফিনল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ককে। এই ম্যাচে ডেনমার্ক পেনালটিতে গোল শোধ করে খেলায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ফিনল্যান্ডের গোলকিপার পেনালটি ঠেকিয়ে দিয়ে ম্যাচ জেতা নিশ্চিত করেন। এরিকসেনের সেই ম্যাচে ডেনমার্ক জিততে পারেনি। তার পরও খেলা শেষে স্টেডিয়ামে এরিকসেনকে ম্যাচের সেরা তারকা ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ গোলে লেবাননকে হারিয়েছে। এই ম্যাচে কোরিয়ার হিউনমিন তার গোলটি বন্ধু এরিকসেনকে উত্সর্গ করেছেন। সারা দুনিয়া এরিকসেনের জন্য প্রার্থনা করছে।
