ঢাবি শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী লীনা তাপসীর বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২১:৫০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংগীতশিল্পী মহসিনা আক্তার খানমের (লীনা তাপসী খান) বিরুদ্ধে গবেষণায় চুরির অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

অভিযোগকারী হলেন সংগীতশিল্পী ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক ইফফাত আরা নার্গিস। 

রবিবার (১৩ জুন) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিযোগ করেন তিনি।

No description available.

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইফফাত আরা নার্গিস বলেন, লীনা তাপসী খানের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ গ্রন্থে ৮০ পৃষ্ঠার স্বরলিপি স্ক্যান করে ঢোকানো হয়েছে মূল পাঠ হিসেবে, যা অনৈতিক। এই ৮০ পৃষ্ঠার স্বরলিপির স্থান হতে পারত গ্রন্থের পরিশিষ্টে৷ মূল পাঠে এই স্বরলিপি কোনোভাবেই স্থান পাওয়ার কথা নয়। এটিও একধরনের চৌর্যবৃত্তি। দেখা যাচ্ছে যে ২৭৭ পৃষ্ঠার বইয়ের মধ্যে ৮০ পৃষ্ঠার স্বরলিপিসহ ১৬৯ পৃষ্ঠা লীনা তাপসী খানের রচনা নয়। এগুলো অন্যের গ্রন্থ থেকে হুবহু গৃহীত, লেখকের নয়। বাকি ১০১ পৃষ্ঠা লীনা তাপসী খানের লেখা বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইদ্রিস আলীর গ্রন্থ থেকেও নেওয়া হয়েছে। যথাযথ অনুসন্ধান হলে প্রমাণিত হতে পারে যে ওই পৃষ্ঠাগুলোতে ব্যবহৃত তথ্যও লেখকের নয়। এমন অবস্থায় বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

No description available.

ইফফাত আরা নার্গিস বলেন, ‘সংগীতের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে আমি লীনা তাপসী খানের “নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার” নামের গ্রন্থটি সংগ্রহ করি। কিন্তু গ্রন্থটি পড়তে গিয়ে আমার এর আগে পড়া তিন-চারটি গ্রন্থের সঙ্গে বেশ কিছু অংশের হুবহু মিল খুঁজে পাই, যা পরিষ্কার চৌর্যবৃত্তি। এই চুরির ওপর ভিত্তি করে যদি তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভ রচিত হয়ে থাকে, তবে এই ডিগ্রি তদন্ত করে বাতিল করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর যদি এই গ্রন্থের সঙ্গে পিএইচডির কোনো সম্পর্ক না থাকে, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক হয়ে অন্যের গ্রন্থ থেকে যথাযথ তথ্যসংকেত উল্লেখ না করে নিজের গ্রন্থে ব্যবহার করে যে চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় তিনি নিয়েছেন, তার যথাযোগ্য বিচার হওয়া উচিত বলে আমি দাবি করি।

No description available.

তিনি বলেন, এই অভিসন্দর্ভের কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন, এই গ্রন্থের কারণে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। এই গ্রন্থের জন্য তিনি নজরুল পদকও পেয়েছেন। অর্থাৎ এই চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে তিনি আর্থিক সুবিধা, পেশাগত সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা গ্রহণ করেছেন; যা দুর্নীতি হিসেবেও গণ্য।

এই সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানান ইফফাত আরা নার্গিস। এগুলো হলো অভিযোগ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী লীনা তাপসী খানের পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল করা, এই ডিগ্রির জন্য পাওয়া সব সুবিধা প্রত্যাহার, ডিগ্রিটি দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া, ওই পিএইচডির ওপর রচিত ‘নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার’ গ্রন্থটি বাতিলের জন্য নজরুল ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া এবং এই গ্রন্থের জন্য পাওয়া নজরুল পদক বাতিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে লীনা তাপসী খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

ইত্তেফাক/এনএ