ক্ষমতাসীন দলের ঠিকাদারদের পাবনা গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে ‘অস্ত্র মহড়া’র ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ স্নিগ্ধ আক্তার রবিবার ইত্তেফাককে বলেন, এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের আলোকে ঘটনা অনুসন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
স্নিগ্ধ আক্তার জানান, গণপূর্ত ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে যে দুজনকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়, গতকাল রবিবার তারা তাদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দিয়েছেন। সেগুলোর বৈধতার বিষয়টি নিশ্চিত হতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আইনগত শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না সেটাও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। অস্ত্র জমাদানকারীরা হলেন—পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের স্থগিতকৃত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু। এদের সঙ্গে ছিলেন পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন ওরফে হাজি ফারুক।
পাবনা সদর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ জানান, সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ জুন রবিবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের বিলুপ্ত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আলহাজ ফারুক হোসেন ওরফে হাজি ফারুক, পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের স্থগিতকৃত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন ও পাবনা জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ৮/৯ জনের একদল ব্যক্তি কমান্ডো স্টাইলে শহরের ছাতিয়ানীতে অবস্থিত পাবনা গণপূর্ত অফিসে ঢোকে। এদের মধ্যে মামুনের হাতে একটি শটগান এবং অন্য একজনের হাতে আরেকটি অস্ত্র ছিল। গণপূর্ত ভবনে তারা ১২ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময়টাতে তারা অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ঐ সময় তাদের সঙ্গীরা বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক সহকারী রবিবার ইত্তেফাককে জানান, ঐ ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে অফিস করছেন। এমন কমান্ডো স্টাইলে তারা অফিসে ঢোকেন যে সবাই ভয় পেয়ে যান। তারা অফিসের এক প্রকৌশলীর টেবিলে অস্ত্র রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢোকেন। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের বাইরে ছিলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকার দলীয় ঠিকাদারদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে দাপ্তরিক আধিপত্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই অস্ত্র মহড়া হতে পারে।
