সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২২:২২

সখীপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক নারী (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল বড়চালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ঐ নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ নারী এখন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিত্সাধীন।

এদিকে গতকাল রবিবার বিকালে ধর্ষণের শিকার ঐ নারী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় তিন জনের নামে ধর্ষণ মামলা করেছেন। সখীপুর থানার ওসি এ কে সাইদুল হক ভূঁইয়া মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঐ নারী অসুস্থ ও চিকিত্সাধীন থাকায় হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আইও থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ঐ নারীর স্বাক্ষর নেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিত্সক রেহানা পারভীন বলেন, ‘একজন নারীর সঙ্গে এমন মর্মান্তিক ও অমানবিক আচরণ আমি এর আগে কখনো দেখিনি। তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষত ও দাগ রয়েছে। তাঁর মুখের চারটি দাঁতও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পায়ুপথ ও গোপনাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এতে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

ঐ নারীর স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার টেংগু সরকারের ছেলে দীনা সরকার (৩৩), নারায়ণ চন্দ্র সরকারের ছেলে মন্টু সরকার (৩০) ও ময়নাল মিয়ার ছেলে শবদুল মিয়া (২৮) দেশি চোলাই মদ পান করে তাঁদের বাড়িতে যায়। এরপর ঐ নারীকে ঘর থেকে ডেকে বের করে পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে তিন জনে মিলে ধর্ষণ করে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘সখীপুর থানার পুলিশকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গণি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ঐ নারীর খোঁজখবর নিয়ে তাঁকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।