দরিদ্র দেশগুলো বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার পাবে

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ০০:৪৭

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে একমত হয়েছে বিশ্বের সাতটি শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭। বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে বছরে ১০০ কোটি বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার দেবে এই দেশগুলো। আগামী বছরের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি ভ্যাকসিন দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে জি-৭। গতকাল জি-৭ সম্মেলনের পক্ষ থেকে একটি খসড়া ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির

খসড়া ঘোষণাপত্রে যা আছে

২৫ পৃষ্ঠার খসড়া ঘোষণাপত্রের একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে বিবিসি। এতে ছয়টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত করোনা ভাইরাস : আগামী বছরের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০০ কোটি টিকার ডোজ দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাপী টিকার উত্পাদন বাড়াতে সক্ষমতা বাড়ানোরও অঙ্গীকার করেছে উন্নত দেশগুলো। মহামারি আগে যাতে সতর্কতা জারি করা যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে টিকা উত্পাদন করা যায় সেই বিষয়েও একমত হয়েছে সাতটি দেশ। খসড়া ঘোষণাপত্রে করোনা ভাইরাসের প্রকৃত উত্স খুঁজে বের করতে যথা সময়ে, স্বচ্ছভাবে, বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে এবং বিজ্ঞানের ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দলকে দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

দ্বিতীয়ত অর্থনীতি পুনরূদ্ধারে সহায়তা : করোনা মহামারির কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। এটা পুনরূদ্ধার করতে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে জি-৭। তৃতীয়ত মুক্ত ও সুষম বাণিজ্য : জি-৭ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক কর পদ্ধতি সাম্য আনার অঙ্গীকার করেছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সেটি বজায় থাকে সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এই শিল্পোন্নত দেশগুলো। চতুর্থত জলবায়ু পরিবর্তন : বিশ্ব নেতারা সবুজ বিপ্লব ঘটাতে চান। তারা বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের হার শূণ্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।   

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপান তাদের খসড়া নীতিতে অঙ্গীকার করেছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি এবং বেসরকারি উত্স থেকে দরিদ্র দেশগুলোকে ১০ হাজার কোটি ডলার দেওয়া হবে। অন্যান্য উন্নত দেশগুলোকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসারণ হ্রাসে অর্থ বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ব্রিটেন বলেছে, এই গ্রহ রক্ষা করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেতা হিসেবে জনগণের জন্য এটা করা আমাদের দায়িত্ব। দেশটি বলছে, ‘গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সু্ন্দর পৃথিবীতে স্বচ্ছ আবহাওয়া ও জলবায়ু রাখতে সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।’ পঞ্চমত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে অংশিদারিত্ব : আফ্রিকার সঙ্গে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো নতুন চুক্তির মাধ্যমে গভীর অংশিদারিত্ব গড়তে চান। এজন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তাও চাওয়া হবে।

ষষ্ঠত জি-৭ এর মূল্যবোধের প্রচার : জি-৭ নেতারা বলেন, আমরা আমাদের মূল্যবোধের প্রচার চালাব, যার মধ্যে চীনকে মানুষের বিশেষ করে শিনজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দাদের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো এবং হংকংকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার আহ্বান জানানোও রয়েছে। জি-৭ নেতারা তাইওয়ান প্রণালীর চারপাশে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। তারা বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা এখনও খুবই উদ্বেগে আছি। সেখানকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এমন কোনও কর্মকা্লেরও আমরা ঘোর বিরোধিতা করছি।

জি-৭ নেতাদের পদক্ষেপে খুশি নয় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের প্রধান ক্যাথেরিন পিটেনগেল বলেছেন, এবার জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু অর্থায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সম্মেলনে এবার চীনই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল। চীনকে টেক্কা দিতে মাঠে নামছে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) এর পালটা প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে ধনী দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পশ্চিমা দেশগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।