বিশ্বকে অল্প কিছু দেশের নিয়ন্ত্রণ করার যুগ শেষ

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২২:২৭

কিছু দেশের একটি ছোট গোষ্ঠী সারা পৃথিবীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেই যুগ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। জি-৭ গোষ্ঠীর নেতাদের সতর্ক করে করে দিয়ে বলেছে চীন। ইংল্যান্ডে চলমান এক শীর্ষ সম্মেলনে যখন জি-৭ গোষ্ঠীর নেতারা চীনের মোকাবিলা করতে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তখনই এই মন্তব্য করলেন লন্ডনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র। খবর বিবিসির

চীনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলা করতে জি-৭ গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের এক পরিকল্পনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, চীনের পুনরুত্থান ঠেকাতে হলে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এখনই সক্রিয় হতে হবে। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড নামে এমন এক পরিকল্পনার সূচনা করছে যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ কর্মসুচির চাইতে উচ্চতর মানের হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন, যার আওতায় নানা রকম অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, চীনের এই কর্মসূচি দরিদ্রতর দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে যা তারা শোধ করতে পারছে না। এখন ক্ষমতাধর পশ্চিমা দেশগুলোর জোট জি-৭ এরই পালটা এক কর্মসূচি হাজির করতে চাইছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, লন্ডনে চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘একটা সময় ছিল যখন কয়েকটি দেশের ছোট্ট একটি গোষ্ঠী বৈশ্বিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু সেই যুগ শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি, ছোট বা বড়, শক্তিধর বা দুর্বল, ধনী বা দরিদ্র যাই হোক—সব দেশই সমান, এবং বৈশ্বিক বিষয়গুলো সব দেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত।’

বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা রব ওয়াটসন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন করোনা ভাইরাস মহামারি পরবর্তী বিশ্বকে গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছেন। তবে তিনি বলছেন, চীনকে অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী নাকি একটি নিরাপত্তা হুমকি ঠিক কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে জি-৭ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো ঐকমত্য নেই।

বিশ্বে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাপক পরিমাণ বিনিয়োগের যে কথা প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলছেন, তার ব্যাপারে শনিবারই জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, জি-৭ এই তহবিল ছাড় করার মতো অবস্থায় আসেনি। কয়েক দিন আগে চীনকে মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২৫ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে এমন এক পরিকল্পনার কথা জানার পর চীন অভিযোগ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহবাতিকগ্রস্ত বিভ্রমে ভুগছে। মার্কিন সিনেটে অনুমোদিত এই বিলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সেমিকন্ডাকটরের মতো ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য অর্থসংস্থান করবে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত চীনকে একটি হুমকি হিসেবে দেখা বন্ধ করা। চীন ইতিমধ্যেই নিজস্ব এমন কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করেছে যা তাদের মতে দেশটিকে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সুবিধা করে দেবে।