উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেও ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারলে রপ্তানির প্রধান বাজারগুলো হারাতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা (রোডম্যাপ) যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার ঢাকায় বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। ‘রিফ্লেকশনস অন দ্য বাজেট ২০২১-২২’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন ও গবেষণা সংস্থা রিসার্স পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান ও র্যাপিড চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন।
ইআরএফের সভাপতি শারমীন রিনভীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহারে ছাড়ের বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তবে বাজেটটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন আমাদের সামনে করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রণোদনার পাশাপাশি ভ্যাকসিনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শেষ না হলে বায়াররা আসবে না। ভ্যাকসিন দিতে না পারলে আমাদের সঙ্গে বায়ার দেশের বিমান চলাচলও স্বাভাবিক থাকবে না। ফলে রপ্তানি বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।’
ভ্যাকসিনেশন জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসানও। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিনেশনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এটি বাড়াতে হবে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাকসিনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ হাজার কোটি টাকা যথার্থ নয় জানিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় থোক বরাদ্দের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকাও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনেশন না হলে আমাদের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
ভ্যাকসিনেশনে জোর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানও।
