মনজিলকে খুন করান পরিবারের সদস্যরাই!

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ০০:৩৯

ঘটনার তিন বছর পর মনজিল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে বলে দাবি করেছে সিআইডি। ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডার আফতাব নগরের নিজ বাসায় খুন হন এই যুবক। সিআইডি বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন নিহতের সত্-ভাই, সত্-মা, মামা ও চাচা। মূলত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার কারণেই এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

গতকাল রবিবার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে চলে যান মনজিলের সত্-ভাই ইয়াসিন। মনজিলের চাচা ফারুক মিয়া নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। চলতি বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি থেকে গ্রেফতার হন ইয়াসিন। এরপর মনজিল হত্যার জট খুলতে থাকে। ইয়াসিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে গ্রেফতার করা হয় ভাড়াটে খুনি রবিউল ইসলাম সিয়াম, মাহফুজুল ইসলাম রাকিব ও সীমান্ত হাসান তাকবীরকে। তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত আলামতে থাকা ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষা করলে মিল পাওয়া যায়। তারা প্রত্যেকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মনজিল হককে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে, পেটে ছুরি চালিয়ে এবং হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে খুন করার কথা স্বীকার করেন সবাই।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, মনজিলের মায়ের মৃত্যুর পর প্রেমিকা লায়লা ইয়াসমিন লিপিকে বিয়ে করে শান্তিনগরের একটি ফ্ল্যাটে সংসার শুরু করেন মনজিলের বাবা মইনুল হক। ফ্ল্যাটটি ছিল মনজিল, ইয়াসমিন (লিপির ছেলে) এবং চাচা ফারুক মিয়ার ছেলে এ কে এম নেওয়াজের যৌথ মালিকানায়। এক পর্যায়ে মইনুল ফ্ল্যাটটি গোপনে বিক্রি করে দেন। এ অবস্থায় ভাই ফারুক মিয়া ফ্ল্যাট বিক্রির টাকা থেকে তার ছেলে নেওয়াজের অংশ দাবি করেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মনজিল ও মনজিলের বাবা ফারুক মিয়াকে মাদকাসক্ত বলে প্রচার করে বাড্ডায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় তিন মাস আটকে রাখেন। তবে এ বিষয়ে ফারুক মিয়া কোনো মামলা করেননি।

পরে মনজিলের বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি বাগাতে ও আগের লাঞ্ছনার শোধ তুলতে ফারুক মিয়া ও ইয়াসিন ৫ লাখ টাকায় ভাড়াটে তিন খুনিকে দিয়ে মনজিলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার সকালে মনজিলের বাসায় ঢুকে ইয়াসিনের উপস্থিতিতে তিন ভাড়াটে খুনি মনজিলকে জিম্মি করে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় চাচা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। পরের বছর ২৪ মার্চ মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি। কিন্তু তদন্ত শুরুর পর থেকেই বাদী অসহযোগিতা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রভাবিত করে আসছিলেন বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক। সিআইডির এ কর্মকর্তা আরো জানান, লিপি, আবু ইউসুফ ও ফারুক মিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।