বইমেলায় একজন লেখকের সাক্ষাত্কার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩০

 

g মুহা. তাজুল ইসলাম

 

ঠাট্টা :এখন পর্যন্ত আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

লেখক :সেটা তো গুণে শেষ করা যাবে না, তবে ৪/৫টি তো হবেই।

ঠাট্টা :এবছর বইমেলায় আপনার যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে, তার নামটা কী?

লেখক :‘প্রেমের নামে বদনা’।

ঠাট্টা :আপনি কি ‘প্রেমের নাম বেদনা’ বলেছেন?

লেখক :জি না। ‘বেদনা না, বদনা। প্রেমের নাম বদনা।’ একটি সামাজিক প্রেমের উপন্যাস।

ঠাট্টা :আচ্ছা, বইটি কোন প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে?

লেখক :বিখ্যাত প্রকাশনী।

ঠাট্টা :আচ্ছা বুঝলাম। তো সেই বিখ্যাত প্রকাশনীর নামটি কী?

লেখক :আরে ভাই, প্রকাশনীর নামটিই হলো বিখ্যাত প্রকাশনী।

ঠাট্টা :এমন কোনো প্রকাশনীর নাম তো আগে শুনিনি। এটার অফিস কোথায়?

লেখক :এর তো কোনো অফিস নেই। এটা আসলে ফেসবুক থেকে প্রকাশিত একটি প্রকাশনী।

ঠাট্টা :তাহলে পাণ্ডুলিপি পাঠানো, পাণ্ডুলিপি যাচাই বাছাই এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ কিভাবে সম্পাদিত হলো?

লেখক :এটা কোনো বিষয়ই না। আমি ফেসবুকে পাণ্ডুলিপি ইনবক্স করেছি, সঙ্গে ত্রিশ হাজার টাকা বিকাশ করেছি, এরপর তিনি কুরিয়ার করে বই পাঠিয়ে দিয়েছেন। একদম সিম্পল!

ঠাট্টা :আপনার নিজের টাকা দিয়ে আপনিই বই ছাপিয়েছে?

লেখক :অবশ্যই। এভাবেই তো আমি বিখ্যাত হয়েছি। আপনি চাইলেও ছাপাতে পারেন। লেখার মান কোনো বিষয় না। যা লেখবেন তাই ছাপা হবে। ডিসকাউন্ট চলছে। টাকা দিবেন, আমি প্রকাশককে বলে সিস্টেম করে দিব। সমস্যা নেই।

ঠাট্টা :প্রকাশক তাহলে তার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইগুলো রাখেন কোথায়?

লেখক :খাটের তলে। প্রকাশক মেসে থাকেন তো, অন্য কোথাও বই রাখার জায়গা নেই।

ঠাট্টা :তাহলে এসব বই পড়ে কারা?

লেখক :আমি আবার ফেসবুক সেলিব্রিটি। আমার ৫-৬ হাজার ফলোয়ার আছে। তাদের মাঝে আমার বইয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ। বিক্রিও ভালোই। অলরেডি তেরো-চৌদ্দ কপি বিক্রি করেছি। যদিও কেউ টাকা দেয়নি। আশা করছি, কমপক্ষে বিশ-ত্রিশ কপি বিক্রি তো হবেই।