ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ডিইপিজেডের সামনে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ধাওয়ায় পালাতে গিয়ে ফুটওভার ব্রিজের লোহার রেলিংয়ের সঙ্গে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে ঐ শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল রবিবার সকালে ডিইপিজেডের ‘লেনী ফ্যাশনে’র পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করেন।
নিহত শ্রমিকের নাম জেসমিন বেগম (৪২)। তিনি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বলিভদ্রবাজার এলাকার মধুপুুরে ভাড়া থেকে ডিইপিজেডে গোল্ডটেক্স কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন।
পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, গতকাল সকালে ডিইপিজেডের ‘লেনী ফ্যাশন’-এর পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ইপিজেডের গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-চন্দ্রা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এ সময় তিন থেকে চারটি গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বিকেএসপির আম্পায়ারবাহী গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জল কামান ও ৫০ থেকে ৬০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় শ্রমিকরা ছুটাছুটি করার সময় জেসমিন বেগম নামের ঐ শ্রমিক ফুটওভার ব্রিজের লোহার রেলিংয়ের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
