গুগল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩১

g  শিমুল শাহিন

 

প্রায় প্রতিটা প্রকাশনীর স্টলের সামনে লোকে লোকারণ্য। নানা কিসিমের লোকের সমারোহ বইমেলায়। পা ফেলা দায়! এদের কেউ এসেছে বই শুঁকে দেখতে, কেউ বিশাল সাহিত্যবোদ্ধার ভাব ধরে এ-বই ও-বই নাড়াচাড়া করে নাক সিঁটকাতে, কেউবা এসেছে নামী-বেনামী সাহিত্যিকদের সঙ্গে মুখ বাঁকিয়ে সেলফি তুলতে! অবশ্য গুটিকয়েক লোকজন এসেছে বই কিনতে। অন্তত আজকের দিনটায় আমি এদেরই একজন! বিভিন্ন স্টল ঘুরে, ভিড় ঠেলে বেশ কয়েকটা পছন্দের বই কিনেও ফেলেছি!

আজকের মতো ক্ষান্ত দেব ভাবছি, তখনই ছোট্ট ভাগ্নেটার কথা মনে হলো। দু-একটা শিশুতোষ বই তার জন্য না নিয়ে গেলেই নয়। বই না পেলে ও পুরো বাড়ি মাথায় করে তুলবে!

থরে থরে শিশুদের উপযোগী বই সাজানো আছে দেখেই বইমেলার কোনার দিকের একটা স্টলে গেলাম। এ দোকানটায় খুব বেশি ভিড় নেই, ছোট ছোট বেশকিছু ছেলেমেয়ে ছাড়া! এদের কয়েকজন একহাতে বাবা-মায়ের আঙুল ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে!

বেশ কিছুক্ষণ ধরেই পাশে দাঁড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টাতে থাকা একটা ছোট্ট মেয়ের দিকে চেয়ে আছি! ভাবলাম ওই মেয়েটা যে বইগুলো নেবে সে বইগুলো আমিও নেব, ছোটদের পছন্দ তো ছোটরাই ভালো বুঝবে! মেয়েটা হাতি-ঘোড়া ছাপানো একটা ছড়ার বই নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার বাবাকে বলল, ‘আব্বু, আমাকে এই বইটা কিনে দাও!’

মুখে বেশ বিরক্তি এনে ওর বাবা বললেন, ‘আরে ধুর, গুগলে সার্চ দিলে এরচেয়ে ভালো ছড়া পাবা!’

হাত থেকে বইটি নামিয়ে রেখে একটা ভূতের গল্পের বইয়ের পাতা উল্টাতে লাগল মেয়েটা। তারপর ওই বইটি তার বাবাকে দেখিয়ে বলল, ‘আব্বু, এইটা?’

আবার তার বাবাকে ভ্রু কুঁচকে বললেন, ‘গুগলে সার্চ দিলে এগুলাও পাবা!’

বেশ তিতিবিরক্ত হয়ে মেয়েটা হাত বাড়াল অন্য আরেকটা বইয়ের দিকে! বিজ্ঞানের বেশকিছু মজার আবিষ্কার নিয়ে লেখা বইটি তার বাবাকে দেখাতেই উনি বললেন, ‘কী সব বই কিনতে চাও, এগুলোও এখন গুগলে অহরহ পাওয়া যায়!’

বাবার এরকম কথা শুনে বেশ ফুঁসে উঠল মেয়েটা! কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল, ‘সবই যখন গুগলে পাওয়া যায়, তাইলে নাহয় আমাকে একটা মোবাইল ফোনই কিনে দিও!’

বেচারা ছোট্ট মেয়েটার কথাগুলো কতটুকু উনার কানের ভিতরে গেল বুঝলাম না! উনি অভ্যাসবশত বলে উঠলেন, ‘উহু, ওইটাও গুগলে পাওয়া যায়!’

রাজশাহী