g নীরব চন্দন
শীতকাল চলছে। শীতকালে সাধারণত চারদিক থেকে নানা ধরনের খাবারের ঘ্রাণ ভেসে আসে। তাছাড়া আমার নাকটা একটু বেশিই ঘ্রাণপ্রিয়। এক কিলোমিটার দূরের রান্না করা খাবারের ঘ্রাণও আমার নাককে ফাঁকি দিতে পারে না। আমার নাকের এই বিশাল ক্ষমতা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি। এর পিছনে রয়েছে অনেক সাধনা ও পরিশ্রম। রয়েছে বিরাট গল্প। হাইস্কুল জীবনে খুব বেশি ক্লাস করা হয়নি আমার। তবুও যে এক-দুটি ক্লাস করেছি, তার মধ্যে আমাদের বাংলা স্যারের ক্লাস ছিল একটি। বাংলা স্যারের ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। বাংলা স্যার অন্য স্যারদের মতো শুধু পড়াতেনই না, বরং ক্লাসে গল্প-গুজব করতেন। অবশ্য পড়ানোর চেয়ে গল্পের পরিমাণটাই ছিল বেশি। আর এটাই আমার কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল। স্যার একদিন ক্লাসে ‘ঘ্রাণেই অর্ধভোজন’ বিষয়ে পড়াচ্ছিলেন এবং এর উদাহরণ দিতে গিয়ে স্যার বললেন, ‘কোন খাবারের ঘ্রাণ নিলেই সেই খাবারের অর্ধেক অটোমেটিক খাওয়া হয়ে যায়। এজন্য যারা রান্না করেন, তারা কম খান। তোমাদের কোন সু-স্বাদু খাবার খেতে ইচ্ছে করলে সেই খাবারের আশপাশে ঘুরঘুর করবে। তাহলেই তোমাদের ফ্রিতেই অর্ধেক খাওয়া হয়ে যাবে।’
স্যারের এই কথাটা আমার খুব মনে ধরল। ঠিক তখন থেকেই আমি স্যারের আইডিয়াটা কাজে লাগানো শুরু করে দিলাম এবং প্রতিদিন নিয়ম করে আশে পাশের সকল বাসার সু-স্বাদু খাবারের ঘ্রাণ নেওয়া শুরু করলাম। আর এভাবেই আমার নাকের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকল। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলাম। পাশের বাসার ইলিশ বিরিয়ানির ঘ্রাণে হঠাত্-ই ঘুমটা ভেঙে গেল আমার। সকাল সকাল ইলিশ বিরিয়ানি খেতে পারব, ভেবে খুব আনন্দ হচ্ছিল। ঘ্রাণটা আরও কাছ থেকে পাওয়ার লোভে চটজলদি বিছানা থেকে উঠে পাশের বাসার দিকে দৌড় দিলাম। ওই বাসার রান্না ঘরটা ছিল রাস্তার পাশেই। আমি রান্না ঘরের পিছনে গিয়ে নাক দিয়ে মনের সুখে ইলিশ বিরিয়ানি খাওয়া শুরু করে দিলাম। কিন্তু তাড়াহুড়া করতে গিয়ে যে শুধু জাঙ্গিয়া পড়ে বাহিরে চলে এসেছি, তা খেয়ালই করিনি। যখন খেয়াল করলাম, তখন মানসম্মান বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। ততক্ষণে পাড়ার দুষ্টু ছেলেগুলো আমার কাণ্ডকারখানা ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে এবং সবাই প্রচণ্ড হাসিহাসি করছে। আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। আমার লজ্জাটা আরও বেড়ে গেল, যখন দেখলাম আমার প্রাণ পাখি (পাশের বাসার অর্পিতা) আমার এমন কৃতকর্মের সাক্ষী হয়ে গেছে। আমার তখন কী অবস্থা, তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। বুঝে নিতে হবে।
খিলক্ষেত, ঢাকা
