মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ১৯:৫৯

পরিচয়

ডাক্তার, সাহিত্যিক, সম্পাদক, সমাজকর্মী।

জন্ম ও পরিবার পরিচিতি

১৮৮৯ সালে মাগুরা জেলার অন্তর্গত পারনান্দুয়ালী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘ডাক্তার মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর পৈতৃক নিবাস উক্ত জেলার হাজীপুর গ্রামে। তাঁর পিতা সরদার মইনউদ্দিন আহমদ, মাতা শামসুন নাহার।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান মাগুরা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ১৯১৫ সালে প্রবেশিকা পাস করেন এবং এফএ পাঠকালেই সিরাজগঞ্জের ভিক্টোরিয়া (১৯১৬) পরে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ হাইস্কুলে (১৯১৮) অ্যাংলো-পারসিয়ান শিক্ষকের পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯২০ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে কলকাতা গমন করেন এবং কৃষ্ণনগর হোমিওপ্যাথিক কলেজ থেকে এইচএম-বি ডিগ্রি লাভ করে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা দ্বারা স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। কলকাতায় মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন  বেগম রোকেয়া,  লুত্ফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।

মোহাম্মদ লুত্ফর রহমানের জীবনের লক্ষ্য ছিল মানুষের মহত্শক্তিকে জাগানো। একারণে তিনি ব্যক্তি-মানুষকে সত্ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার দিকে বেশি জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে সুপ্ত হয়ে আছে মহত্গুণাবলী সমাজে এবং উন্নত জীবনযাপনে যেগুলি কার্যকর করা সম্ভব। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এ সম্ভাবনাকে প্রেরণাশক্তি হিসেবে সঞ্চারিত করে দিতে চেয়েছেন তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে।

এ লক্ষ্যে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেছেন সেসব গ্রন্থের নামকরণের মধ্যেই মোহাম্মদ লুত্ফর রহমানের জীবন ও জগত্ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য

তাঁর প্রধান বই

মহত্জীবন, মানবজীবন, সত্যজীবন, উচ্চ জীবন, ধর্মজীবন, মহাজীবন, যুবকজীবন, সরলা, পথহারা, প্রীতি-উপহার, বাসর-উপহার, ছেলেদের মহত্ত্বকথা, ছেলেদের কারবালা, রানী হেলেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য শিশুকিশোর উপযোগী রচনাও রয়েছে।

১৯৩৬ সালের ৩১ মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন। 

                সূত্র: বাংলাপিডিয়া