মাধব রায়
কথাসাহিত্যিক-সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
এই ফল্টগুলোতে ভূমিকম্প ঘটলে আমাদের বড়লেখায় যে পাহাড়গুলো রয়েছে, যেমন পাথারিয়া পাহাড় এগুলো সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিদ্যাবিভাগের অধ্যাপক এবং আর্থ অবজার্ভেটরির পরিচালক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছেন—শনি ও রবিবারের ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল জৈন্তাপুর উপজেলার সারি নদীর উজান দিকে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে ডাউকি ফল্টলাইনের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত। তাই নাকি, বললেন কমলা।
হ্যাঁ, ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে এই লাইনে ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয়, যা কলকাতায় এমনকি মায়ানমার পর্যন্ত অনুভূত হয়। এই অধ্যাপক আরও বলেন, ডাউকি ফল্টলাইন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পূর্বসীমান্ত এলাকায় চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা ফোল্ডবেল্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি কয়েকশ বছর ধরে জমা হয়ে আছে। এই শক্তি যখন ছেড়ে দেবে তখন বড় ভূমিকম্প হবে। ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে।
ওরে বাব্বা, প্রকৃতি এত বড় নিষ্ঠুর হতে পারে! আঁতকে উঠে বললেন কমলা।
তানভীর সাহেব বললেন, বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কয়েকটি ভূমিকম্প হয়। আমাদের শনি ও রবিবারের ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা। আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক মাসের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হতে পারে।
কমলা হঠাত্ চেঁচিয়ে উঠলেন— ভূমিকম্প এসেছে। সবাই সতর্ক হয়ে উঠল। তখন বোঝা গেল, না ভূমিকম্প নয়, তানভীর সাহেব পা নাচাচ্ছেন সোফার টেবিলের নিচে রেখে। আর কমলা টেবিলে হাত রেখে বসেছেন সোফায়। তানভীর সাহেব থামতেই খেয়াল হল ভূমিকম্প নয়। হেসে উঠল সবাই।
