বাচ্য

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২০:০০

অনিল চন্দ্র রায়, অধ্যক্ষ

পারুলিয়া তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ

লালমনিরহাট  

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির  বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাচ্য নিয়ে আলোচনা করবো।                                 

বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। একটি বাক্যকে বিভিন্নভাবে লেখা যেতে পারে। একেকভাবে লিখলে বাক্যটির মূল বক্তব্য একই থাকলেও, একেকবার একেকটি উপাদান অধিক প্রাধান্য পায়। একটি বাক্যের বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গিকেই বলে বাচ্য।

বাচ্যের প্রকারভেদ:

বাংলা ভাষায় ৩টি বাচ্য পাওয়া যায়:

১. কর্তৃবাচ্য, ২. কর্মবাচ্য ও ৩. ভাববাচ্য।

১. কর্তৃবাচ্য:বাক্যে কর্তার প্রাধান্য রক্ষিত হলে তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়াপদ ব্যবহূত হয় এবং ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হয়।

কর্তৃবাচ্যের পদে কর্তায় - শূন্য বিভক্তি হয়।

কর্মে - দ্বিতীয়া বা ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। (শূন্য বিভক্তিও হতে পারে)

যেমন- ছাত্ররা বাংলা পড়ছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান। রোগী পথ্য সেবন করে।

২. কর্মবাচ্য:কর্মপদ প্রধান রূপে প্রকাশিত হলে তাকে কর্মবাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে ক্রিয়াপদ কর্তা অনুযায়ী না হয়ে কর্মপদ অনুযায়ী হয় এবং কর্মপদের অনুসারী হয়।

এ ধরনের বাক্যে কর্তায় - তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

কর্মে - শূন্য বিভক্তি হয়। (কখনো কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তিও হয়)

যেমন:শিকারি কর্তৃক বাঘটি নিহত হয়েছে। আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য বিজিত হয়।

চোরটা ধরা পড়েছে। আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। (কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি)

৩. ভাববাচ্য:বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। কাউকে কোন কিছু সরাসরি না বলে ঘুরিয়ে বলতে গেলে ভাববাচ্যে বলা যায়।

এ ধরনের বাক্যে কর্তায়- ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

নামপুরুষের ক্রিয়াপদ [ক্রিয়াপদ] হয়।

মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়।

কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাত্ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে।

যেমন- আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ) তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)

কর্মকর্তৃবাচ্য:এছাড়াও বাংলায় আরো এক ধরনের প্রকাশভঙ্গির বাক্য দেখা যায়। এ ধরনের বাক্যের বাচ্যকে বলা হয় কর্মকর্তৃবাচ্য। এ ধরনের বাক্যে কর্তাপদ উহ্য থাকে, তবে কর্মপদ থাকে। আর ওই কর্মপদই কর্তার কাজ করে। অর্থাত্, যে বাক্যে কর্তা থাকে না, কর্মই কর্তার কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।

যেমন- কাজটা ভালো দেখায় না। এখানে কর্তা নেই। কর্ম হলো ‘কাজ’। কিন্তু ‘কাজ’ নিজেই কর্তার মতো বাক্যকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।