উখিয়া সৈকত সড়ক বেহাল

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২০:৫৪

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের ইনানী বিচ ও তত্সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সৈকত সড়কটির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটকসহ অসংখ্য যাত্রীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পাচারকারীরা ভারী যান ব্যবহার করে বালি ও মাটি পরিবহনের ফলে সড়কটির এ করুণ অবস্থা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজার আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ যানবাহন সংকীর্ণ এ সড়কটি ব্যবহার করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটা মাটি ও বালি ভর্তি ভারী ট্রাক নির্বিচারে চলাচলের কারণে সড়কের এই অবস্থা। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

কোর্টবাজার ট্রাকমালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি মো. শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, কোর্টবাজার সোনারপাড়া সৈকত সড়ক দিয়ে ইনানীসহ কক্সবাজার হয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য যাত্রী আসা-যাওয়া করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও দৃশ্যমান কাজ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী মজুত, খানাখন্দ ও সড়কের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ইনানী শেখ জামাল জাতীয় উদ্যান সিএমসি কমিটির সভাপতি শহীদুল্লাহ কায়সার অভিযোগ করেন, এ সড়ক দিয়ে নির্বিচারে বালি মাটি ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারসহ উখিয়া টেকনাফে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এ সড়কটি আরো সম্প্রসারণসহ প্রস্থ বাড়ানো হলে পর্যটন শিল্পে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় জালিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী সড়কটির চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ সড়কটি বৃহত্তর উপকূলীয় এলাকা ও ইনানী বিচের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন হওয়ায় এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বর্ষার কারণে সংস্কার কাজ একটু বিলম্বিত হচ্ছে। স্থানীয় যাত্রীসাধারণের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, ইনানীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সৈকত সড়কটির দৃশ্যমান উন্নয়নের কাজ চলছে। চলমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে জালিয়াপালং কক্সবাজার ও উখিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে এ সড়কটি বৃহত্তর জনসাধারণের উপকারে আসবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে এ সড়কটি অবদান রাখবে।