চীনের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান ন্যাটো প্রধানের

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২১:০১

ন্যাটোর আগে চীনের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছিল জি-৭। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে শেষ হওয়া সম্মেলনে চীনকে ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জোটটি।

 আলজাজিরা

বিশ্বে চীনের ক্রমবর্ধমান উত্থান ঠেকাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সম্মেলন শুরুর এক দিন আগে রবিবার এ কথা বলেন জোট প্রধান জেনস স্টেলটেনবার্গ। তিনি বলেন, চীনের বিরুদ্ধে ন্যাটোকে আরো শক্তিশালী নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কানাডার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টেলটেনবার্গ বলেন, চীনের সামরিক খাতের বাজেট বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশটির নৌবাহিনী বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী। চীন ধীরে ধীরে সামরিক খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টেলটেনবার্গ বলেন, চীন বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে চীন। আটক করা হয়েছে আন্দোলনকারীদের। অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের। বন্দি শিবিরে আটক রাখা হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের। একই সঙ্গে চীন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ দেশের নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। চীনের এমন আচরণকে মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটো প্রধান। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসারণ করে চীন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় চীনকে এখনই কার্বন নিঃসারণের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্টেলটেনবার্গ। এছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর ব্যবহারে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চীনে আটক কানাডার দুই নাগরিকের মুক্তি দাবি করেছেন জেনস স্টেলটেনবার্গ। তিনি বলেন, মাইকেল কোভরিগ ও মাইকেল স্পাভরকে আটক রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। চীনের এসব দমন-নিপীড়ন নীতি ন্যাটোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ন্যাটো মহাসচিব দাবি করেন, চীনকে এসব নিপীড়ন এখনই বন্ধ করতে হবে। ন্যাটোর আগে চীনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছিল জি-৭। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে শেষ হওয়া সম্মেলনে চীনকে ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জোটটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিকল্প আরেকটি প্ল্যাটফরম বাস্তবায়নের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে ধনী দেশগুলোর এ জোট।