হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
রাস্তায় চলাচলে রিকশার পরিবর্তে নৌকায় ভরসা করছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ফতুল্লার লালপুর ও পৌষারপুকুরপাড়সহ তার আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যেতে নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। এসব রাস্তায় কোমরপানি জমে আছে। নৌকা ছাড়া চলাফেরা করার কোনো বিকল্প নেই। নৌকায় উঠলেই দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। এক মিনিটের পথ রিকশাচালকদের তিন গুণ ভাড়া দিতে চাইলেও তারা যেতে রাজি নয়। গতকাল ফতুল্লার লালপুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জলাবদ্ধ নগরীতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এদিকে ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর মানুষ ভেবেছিল টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তা থেকে শুরু করে মানুষের ঘরে এখন পানি জমে রয়েছে। যাদের প্রাইভেট গাড়ি রয়েছে বাড়িতে না রেখে অন্য স্থানে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে নৌকায় চড়ে শুকনো স্থানে গিয়ে গাড়িতে উঠে তারা তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছে। আর গরিব মানুষ নৌকা ভাড়া দিতে কষ্ট হবে বিধায় কোমরপানি ভেঙে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বর্ষাকাল মানেই তাদের জন্য পানিবন্দি হওয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করে। ঘর থেকে বের হয়ে বাজারে যেতে হলে নৌকা ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তার পরও সব জায়গায় নৌকা চলাচল করে না। লালপুরের বাসিন্দা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, ‘জলাবদ্ধতার কথা বলার কিছু নেই। আমিও বাসা হতে বের হলে নৌকায় চড়ে পার হচ্ছি। এ রাস্তায় কোনো রিকশা চলাচল করতে পারছে না। মোটর দিয়েও পানি অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে আমাদের এ দুর্ভোগ অবসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।’ উল্লেখ্য, ফতুল্লার লালপুর, পৌষারপুকুর পাড়, আলআমিন নগর, উত্তর ইসদাইর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ খাদ এলাকায় বসানো হয়েছে শক্তিশালী তিনটি মোটর। কিন্তু প্রায়ই এই মোটর বন্ধ রাখার অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও তা অস্বীকার করেছেন মোটর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। তাদের দাবি দৈনিক ১৮ ঘণ্টা মোটর চালিয়েও পানি পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর দীর্ঘ সময় মোটর চালিয়ে রাখার ফলে ত্রুটি দেখা দেয় মোটরে।
