সত্যজিত্ বিশ্বাস
অনভ্যাসে বিদ্যা নাশ
প্যাসেঞ্জার :কী ব্যাপার, বাস চলন্ত অবস্থায় দরজা বন্ধ রাখার নিয়ম হইছে না, মানো না কেন?
হেলপার :আমি তো মানতেই চাই, কিন্তু দরজা তো মানে না।
প্যাসেঞ্জার :তার মানে?
হেলপার :কত চেষ্টাই তো করলাম। না লাগাইতে, না লাগাইতে দরজা তো এখন আর লাগে না।
সুপার হিট
প্রথম বন্ধু :কীরে দোস্ত, তোর বইয়ের খবর কী?
দ্বিতীয় বন্ধু :একেবারে সুপার হিট।
প্রথম বন্ধু :বাহ, শুনে খুব ভালো লাগল। কিন্তু তোর কপাল ফোলা কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু :ওই যে বললাম, সুপার হিট।
প্রথম বন্ধু :তার মানে?
দ্বিতীয় বন্ধু :গতকাল অনেক বলে কয়ে এক কপি বই বিক্রি করেছিলাম। যে কিনেছিল তাকে বলেছিলাম, পড়ে তার অনুভূতি জানাতে।
প্রথম বন্ধু :তারপর?
দ্বিতীয় বন্ধু :আজ মেলায় এসে বইটা কপাল বরাবর ছুঁড়ে অনুভূতি জানিয়ে গেল।
মার মার, কাট কাট
প্রথম বন্ধু :বইমেলা তো দেখছি এখনো ঠিক জমেনি।
দ্বিতীয় বন্ধু :তা জমেনি। কিন্তু একটা বই দেখছি মার মার, কাট কাট ভঙ্গিতে চলছে।
প্রথম বন্ধু :খুব ভালো লিখেছে বোধহয়।
দ্বিতীয় বন্ধু :না, ঠিক তা না। যে লিখেছে, সে কুংফু-ক্যারাতে ব্ল্যাক ব্যাল্ট প্রাপ্ত।
প্রথম বন্ধু :এর সাথে লেখার কী সম্পর্ক?
দ্বিতীয় বন্ধু :যে তার স্টলের সামনে দিয়ে যাচ্ছে, বই না নিলে মেরে কেটে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে।
অনুভূতি প্রকাশ
সাংবাদিক :এবার যে প্রথম বই বের হলো লেখক হিসেবে অনুভূতি কী?
নব্য লেখক :দরজার হাতলের মতো।
সাংবাদিক :সে আবার কেমন?
নব্য লেখক :বইমেলার প্রথম দিন থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রকাশক আর মাঝামাঝি থেকে শেষদিন পর্যন্ত ক্রেতারা ইচ্ছামতো ঘুরিয়েছে।
খোঁজাখুঁজি
বিক্রেতা :কখন থেকে দেখছি আপনি প্রতিটা স্টলে মনোযোগ দিয়ে কী যেন খুঁজছেন।
ক্রেতা :জি, ঠিকই দেখেছেন।
বিক্রেতা :দেখে খুব ভালো লাগল। আপনার মতো সাহিত্য রসিক মানুষ আসলেই বিরল। আমি কি আপনাকে সাহায্য করতে পারি? কী ধরনের বই খুঁজছেন, বলবেন?
ক্রেতা :বই খুঁজছি কে বলল?
বিক্রেতা :তাহলে?
ক্রেতা :কোন স্টলে আমার চশমাটা হারালাম, তাই খুঁজি।
রাইটার
প্রথম বন্ধু :কিরে দোস্ত, তোর দেখি খুব নামডাক। সবাই তোকে রাইটার বলে ডাকাডাকি করছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :এই আর কী...
প্রথম বন্ধু :আরে লজ্জা পাচ্ছিস কেন? কতদিন যাবত লেখালিখিতে আছিস?
দ্বিতীয় বন্ধু :এই, বছর তিনেক।
প্রথম বন্ধু :বলিস কী! তা ২০১৯-এর বইমেলায় কি বই আসছে?
দ্বিতীয় বন্ধু :বইমেলায় বই আসবে কেন?
প্রথম বন্ধু :হায়রে দোস্ত, তুই কি ভেবেছিস আমাকে বললে সৌজন্য কপি চেয়ে বসব? এমন ভাবতে পারলি?
দ্বিতীয় বন্ধু :তাই বা কখন ভাবলাম?
প্রথম বন্ধু :তুই কি মনে করেছিস চাকরির পাশাপাশি এই যে এত পরিশ্রম করে লিখছিস, আমি এর মূল্য বুঝি না?
দ্বিতীয় বন্ধু :কী বলছিস তুই এসব! আমার চাকরিই তো লেখালিখি করা।
প্রথম বন্ধু :তার মানে?
দ্বিতীয় বন্ধু :আমি দলিল লেখক না!
প্রুফ এডিটর নেই?
সম্পাদক :আপনার বাংলা বানানের অবস্থা তো ভয়াবহ। পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠাতেই তো এগারোটা বানান ভুল।
লেখক :তাতে কী হয়েছে? আপনাদের প্রুফ এডিটর নেই?
বইমেলায় বিজ্ঞাপন
লেখক :আজ যে আমার একটা বই কিনবে, তাঁকে দুইটা ফ্রি ‘গ্রাফ’ দেব।
ক্রেতা :সেটা কী জিনিস?
লেখক :আগে তো বই কিনে নিয়ে আসবেন, তারপর না দেখবেন।
ক্রেতা :এই যে বই কিনে নিয়ে এলাম। এখন ফ্রি কী কী দেবেন, দেন।
লেখক :অবশ্যই। বইটা খোলেন, এই নেন অটোগ্রাফ, বইটা তোলেন, এই নেন ফটোগ্রাফ।
বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটা
পুরুষ ও মহিলা ক্রেতার মধ্যে পার্থক্য
পুরুষ
বিক্রেতা :যা নেবেন ১২০ টাকা।
পুরুষ ক্রেতা :ভাই, ওই ফ্রাই প্যানের দাম কত?
বিক্রেতা :মাত্র ১২০ টাকা ভাই। সুবর্ণ সুযোগ, এক্ষুনি না নিলে কিন্তু আর পাবেন না।
পুরুষ ক্রেতা :আচ্ছা, ভালো একটা প্যাকেটে মুড়িয়ে দেন তাইলে। রাস্তায় যেন ছিঁড়ে না পড়ে।
মহিলা
বিক্রেতা :যা নেবেন ১২০ টাকা।
মহিলা ক্রেতা :ভাই, ওই স্টিলের বড় থালাটা, ওটার দাম কত?
বিক্রেতা :১২০ টাকা
মহিলা ক্রেতা :আচ্ছা, ওই যে স্টিলের গামলাটা?
বিক্রেতা :ওটাও ১২০ টাকা
মহিলা ক্রেতা :আর ওই যে ফ্রাই প্যান ওটার দাম?
বিক্রেতা :ওটার দামও ১২০ টাকা।
মহিলা ক্রেতা :স্টিকি না ননস্টিকি?
বিক্রেতা :ননস্টিকি
মহিলা ক্রেতা :রান্না করলে পুড়ে যাবে না তো?
বিক্রেতা :জি না।
মহিলা ক্রেতা :গ্যারান্টি কতদিনের?
বিক্রেতা :১২০ টাকার ফ্রাই প্যানে আবার গ্যারান্টি! গ্যারান্টি মেলা পর্যন্ত।
মহিলা ক্রেতা :ফাজলামি করেন?
বিক্রেতা :ফাজলামি করব কেন? এরপর তো আর এখানে থাকব না। তাই বললাম।
মহিলা ক্রেতা :কিন্তু গ্যারান্টি ছাড়া জিনিস কেমনে নিই?
বিক্রেতা :আপা, জিনিসটা হালকা আছে হাতেই নেন।
যোগ্য সম্মান
প্রথম বন্ধু :‘২৬ জন ধনীর হাতে বিশ্বের অর্ধেক গরিবের সমান সম্পদ’ এদের কী করা উচিত বল তো?
দ্বিতীয় বন্ধু :অবশ্যই নোবেল টাইপ কোনো পুরস্কার দেওয়া উচিত।
প্রথম বন্ধু :এসব কী বলিস তুই?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, যে ২৬ জন মানুষ বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সব সম্পদ নিজের কাছে পাহারা দিয়ে রাখছে তাদের পরিশ্রমের যোগ্য সম্মান পাওয়া উচিত কী না, তুই-ই বল?
