কুষ্টিয়ায় স্ত্রী-সন্তান ও যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের এএসআই (বরখাস্ত) সৌমেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে নিহত যুবক শাকিলের বাবা মেজবার রহমান কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আসামির স্বীকারোক্তি ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত মামলাটি প্রমাণে যথেষ্ট।’ পুলিশ জানায়, ডিবি কার্যালয় থেকে সৌমেনকে বিচারক এনামুল হকের আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। তবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে আদালত সূত্র জানায়। এদিকে ময়নাতদন্তে তিন জনের প্রত্যেকের মরদেহে দুটি করে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতালের আরএমও ও ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ডাক্তার তাপস কুমার সরকার জানান। তবে দেহ ভেদ করে প্রত্যেকটি গুলি বেরিয়ে গেছে বলেও ঐ চিকিত্সক জানিয়েছেন। ধৃত এএসআই সৌমেনকে বরখাস্তের পর পুলিশের খুলনা রেঞ্জ গঠিত তদন্ত কমিটি নেপথ্যের কাহিনি উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে। নিহত আসমা এসএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সৌমেন আসমার তৃতীয় স্বামী। নিহত শিশুপুত্র রবিন আসমার দ্বিতীয় স্বামী রুবেলের সন্তান। কুষ্টিয়া জেলায় কর্মকালীন এএসআই সৌমেন আসমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
পুলিশ ধারণা করছে, খুলনায় এএসআই সৌমেনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের গোপন খবর প্রকাশ পাওয়ার পর আসমা-সৌমেনের দাম্পত্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। পরবর্তী সময় আসমা শাকিল খানের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়া ও দাম্পত্য কলোহের জেরেই সৌমেন তিন জনকে হত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
