খুলনায় এবারও কোরবানির পশুসংকটের আশঙ্কা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২১:৫৬

খুলনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৭৫ হাজার। কিন্তু এর বিপরীতে মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে ৪১ হাজার ৯০০ পশু। ফলে এ বছরও কোরবানিতে পশুর চাহিদা মেটাতে অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হবে এ জেলার কোরবানিদাতাদের।

খুলনা জেলা পশুসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, গত তিন বছর ধরে খুলনা জেলায় কোরবানিতে পশুর সংকট চলছে। গত ঈদে শেষ মুহূর্তে ভারতের হরিয়ানা জাতের গরু আমদানিতে সংকট কিছুটা কাটে। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে এবার সেটি সম্ভব হবে না। ফলে এবারের সংকট কাটানো কঠিন হবে।

পশুসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, এবার কোরবানির জন্য খুলনা জেলায় ষাঁড়, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে ৪১ হাজার ৯০০ পশু প্রস্তুত হচ্ছে। গত কোরবানিতে ৭৫ হাজার পশু কোরবানি হয়। সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে খুলনা মহানগরী, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রার উত্তর অংশ, দাকোপ, রূপসা, তেরখাদা, দীঘলিয়া ও ফুলতলার বিভিন্ন খামার ও বাড়িতে গবাদি পশু মোটাতাজা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মোটাতাজা হচ্ছে ডুমুরিয়া উপজেলায়। এদিকে শহরতলীতে জার্সি ও ফ্রিজিয়ানা ষাঁড় মোটাতাজার সংখ্যাই বেশি। পাইকগাছা ও কয়রায় উত্তর অংশের খামারগুলোতে দেশি গরু মোটাতাজা হচ্ছে। এই মুহূর্তে দাম সম্পর্কে খামারিরা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

খামারি সূত্র জানায়, প্রতিটি ষাঁড়ের খাবার হিসেবে দৈনিক ৩০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনাবৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ঘাস উত্পাদন হয়নি। দানাদার খাবারের দাম বেড়েছে। করোনার কারণে উপজেলা সদরগুলোতে দানাদার খাবারের আমদানি কম।

খুলনা জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রণজিতা চক্রবর্তী জানান, নিরাপদ মাংসের জন্য খামারিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোটাতাজাকরণ খামারগুলোতে কোনো অপদ্রব্য ব্যবহার হচ্ছে না। তিনি জানান, নগরীসহ ৯ উপজেলায় ৪১ হাজার ৯০০ পশু প্রস্তুত হচ্ছে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ঈদের সাত দিন আগে থেকে পশু খুলনা মহানগরীতে আসতে শুরু করবে। তাই সংকট হবে না। এবারের পশুর হাট বসা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা সংক্রমণের ওপর নির্ভর করছে পশুর হাটের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো হবে কি না।