পল্লবীর সাবেক ওসিসহ সাত পুলিশ দায়ী

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২২:১৫

মাদক মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নির্দোষ আরমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পল্লবী থানার সাবেক ওসি দাদন ফকিরসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপর পুলিশ সদস্যরা হলেন :ঐ থানার তত্কালীন এসআই খান ইমদাদুল হক, এসআই মো. রাসেল, এএসআই হযরত আলী, এসআই মনিয়ারা আক্তার, পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজা পরোয়ানামূলে মূল আসামির ডাক নামের সঙ্গে নিরপরাধ আরমানের নাম ও পিতার নামের একাংশ মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু গ্রেফতারকৃত আরমান প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কি না, তা যাচাই না           করার কারণে তিনি বিনাদোষে কারাভোগ করেছেন। এর দায় কোনোভাবেই ওসি দাদনসহ সংশ্লিষ্ট সাত পুলিশ সদস্য এড়াতে পারেন না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি এই প্রতিবেদন গতকাল সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করে। প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মামলায় আসামির নামের সঙ্গে পিতা-মাতা উভয়ের নাম সংযুক্তসহ চার দফা সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার হমায়ন কবির পল্লব।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত তিন বছর ধরে কারাভোগ করছেন। পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিবর্তে সাজাভোগ করছেন আরমান। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন  ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। ঐ রিটের রায়ে গত বছর হাইকোর্ট ঐ কারাভোগের ঘটনার আদ্যোপান্ত তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে সভাপতি করে তিন সদস্যের কমিটি করে দেন পিবিআই প্রধান। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন :পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ও পুলিশ পরিদর্শক মো. কবির হোসেন।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে হাইকোর্টে দাখিল করা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পল্লবীর থানার তত্কালীন ওসি দাদন ফকির ওসি হিসেবে মোবাইল-৭৩ টিম কর্তৃক সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারকৃত মো. আরমানকে থানায় হাজির করার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধৃত আসামি ওয়ারেন্টে উল্লিখিত আসামি কি না, তা সার্বিকভাবে যাচাই না করার কারণে প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন বিহারীর পরিবর্তে নিরপরাধ আরমান গ্রেফতার হয়ে বিনাদোষে দীর্ঘ কারাভোগ করে। ওসির এহেন কাজ দায়িত্ব ও কর্তব্যে চরম অবহেলার শামিল। বাকি পুলিশ সদস্যরাও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি।

চার দফা সুপারিশ:

প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে যাতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা গ্রেফতার হয়ে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলায় আসামির নামের সঙ্গে পিতা-মাতা উভয়ের নাম সংযুক্ত করা। ইতিমধ্যে পিবিআই কর্তৃক তদন্তকৃত সব মামলার প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের পিতা ও মাতা উভয়ের নাম সংযুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে আসামিদের সহজে এবং কার্যকরভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আসামি গ্রেফতারের পর তার ছবি ধারণ করা। আসামির সঠিক নাম ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য প্রেরিত অনুসন্ধান স্লিপের (ই/এস) সঙ্গে আসামির ছবি সংযুক্ত করে প্রেরণ করা। ই/এস হিসেবে প্রচলিত বিপি ফরমের পরিবর্তে অনুসন্ধান কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত বিপি ফরম ব্যবহারের নিমিত্তে তা মুদ্রণ ও সরবরাহ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিহিত আদেশ দেওয়া। অনুসন্ধান স্লিপ তদন্ত শেষে এসসিডির সঙ্গে আসামির পরিচিত সংক্রান্তে এনআইডি/পাসপোর্টের কপি/ড্রাইভিং লাইসেন্স/জন্মনিবন্ধন সনদের কপি সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছে অনুসন্ধান কমিটি।