পরীমণির পাশে সহকর্মীরা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ২২:১৫

চিত্রনায়িকা পরীমণি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর তার ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষি, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। সহশিল্পীরা বিচ্ছিন্নভাবে নিজ নিজ ফেসবুক একাউন্টে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তবে ঘটনার পরপরই বিষয়টি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতা জায়েদ খানকে অবহিত করা হলেও সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন পরীমণি।

পরীমণি গত রবিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি শিল্পী সমিতিতে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানেও ‘দেখছি’ বলে কালক্ষেপণ করা হয়েছে। অবশ্য সারা দেশের শিল্পীরা যখন একের পর এক তাদের ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান, তখন শিল্পী সমিতি জানাল তারাও পরীমণির পাশে রয়েছে।

এদিকে শিল্পী সমিতি কেন এমন আচরণ করল জানতে চাইলে                সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘পরীমণি মৌখিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে বলেছিলেন। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি দেননি। একটি লিখিত অভিযোগ দিলেই তার সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু হয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই অলিখিতভাবেই পরীর পাশে সবসময় আছি।’

অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান লিখেছেন ‘নারীদের এমন লাঞ্ছনার ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একবিংশ শতকের অনেকটা পথ পার হয়ে এসে এখনো মেয়েদের এমন লাঞ্ছনা দেখতে হবে? কোনো মানুষ, কোনো মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ করার মন-মানসিকতা বা দুঃসাহস কোত্থেকে আসে? যে চলচ্চিত্র শিল্পকে রক্তেঘামে আমরা তিল তিল করে গড়ে তুলছি, তা এতই নাজুক, এতই খেলো?’

অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর লিখেছেন, ‘আমরা কোথায় আছি! ?এ কোনো দেশে আমরা বাস করছি। স্বনামধন্য চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। নারীর প্রতি কোনো সহিংসতা ও অত্যাচার সহ্য করব না, মানব না।’

নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস লিখেছেন, ‘আমার মামনির (পরীমণি) জন্য বিচার চাই!’ নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক লিখেছেন, ‘একজন মানুষের সঙ্গে এমন অসভ্যতার তীব্র নিন্দা জানাই। একজন নারীর সঙ্গে এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। চলচ্চিত্র পরিবারের এক জনের সঙ্গে এমন ব্যবহারের তীব্র ঘৃণা জানাই। পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা প্রচেষ্টার বিচার চাই।’

কণ্ঠশিল্পী কোনাল লিখেছেন, ‘আমরা যে কোনো কিছুতেই হাসি! কেউ ধর্ষিত হলেও হাসি, কেউ মরে গেলেও হাসি, কেউ কান্না করছে তা দেখেও হাসি, কেউ কষ্ট পাচ্ছে তা দেখেও হাসি। হাসাহাসি খুবই ভালো ব্যাপার। কিন্তু আপনার আমার এই স্বার্থপরতার হাসিটা বোধহয় আসে নিজের অক্ষমতা, নিজের ব্যর্থতা থেকে।’

চিত্রনায়ক কায়েস আরজু লিখেছেন, ‘আমার বন্ধুর (পরীমণি) ওপর অন্যায়ের বিচার চাই। অপরাধী যেই হোক যত বড়ই হোক, তার বিচার হতেই হবে। অনেকে যা পারেন না পরিমণি তার প্রতিবাদ করে দেখিয়েছে। আর প্রতিবাদ নয়, এখন প্রয়োজন কঠিন প্রতিরোধ!’

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লিখেছেন, ‘পরীর এই কান্না নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। একজন নারী হিসেবে, একজন সহকর্মী হিসেবে। সম্মান একটা পিঁপড়ারও আছে পরীমণি একজন নায়িক, হ্যাঁ বাংলা সিনেমার নায়িকা। তো? তার সঙ্গে যা খুশি তাই করা যাবে! এই পিতৃৃতান্ত্রিক সমাজে যত বড় হচ্ছি তত নিজেকে অতি ক্ষুদ্রভাবে দেখতে পাচ্ছি। একজন নারী সে ঘরের বউ হোক, পার্লারে কাজ করা মেয়ে হোক, বিশাল কাঁচের রুমে বসে অফিস করা মেয়ে হোক, গার্মেন্টস কর্মী হোক, ডাক্তার হোক, লেখক হোক, আর যদি নায়িকা হয় তাহলে তো কথাই নাই। সবাইকে সহ্য করতে হয়, অসম্মান, সবাইকে। পরীর পাশে আছি। পরী তুমি ভাঙবে না প্লিজ।’