কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ১৫ জুন ২০২১, ০০:১৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন এক নারী। তার ভাষ্য, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে চার-পাঁচ মাস ধরে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি গতকাল সোমবার ঢাকা উত্তরের মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক সাংবাদিকদের বলেন, স্বামীর সঙ্গে ঐ নারীর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিনিসহ অন্যরা দফায় দফায় চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে একবার তার স্বামী ১০ হাজার টাকা হাতখরচ না দেওয়ার শর্তে পুনরায় সংসার করতে রাজি হন। এভাবে বিষয়টির সুরাহা হয়। তবে হাতখরচে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি ঐ নারীর পছন্দ হয়নি। এই ক্ষোভ থেকে তিনি তার (মানিক) বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে উসকে দিয়ে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী নারী মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের জ ব্লকের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ২০১৪ সালে স্বামীর সঙ্গে তার কলহ হয়। ঘটনাটির বিচারের দায়িত্ব নেন কাউন্সিলর। তিনি তাকে ভুল বুঝিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে বলেন। তবে তত্কালীন মেয়র সেই তালাকের আবেদন গ্রহণ না করে বিবাদ মিটিয়ে সংসার করার পরামর্শ দেন। তখন কাউন্সিলর জোর করে তার স্বামীকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। একসময় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করান। পরে তাকে চাপ দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির ব্যবস্থা করেন মানিক। এরপর তিনি আশ্রয় দেওয়ার নামে নারীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। তাকে একটি ঘরে থাকতে দেওয়া হয়। বিনিময়ে ঐ বাসায় কাজ করতেন ভুক্তভোগী। এক দিন স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার ঘরে গিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান কাউন্সিলর। এ সময় ঐ নারী প্রতিবাদ করলে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি মানিকের স্ত্রীকে জানান। এতে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। তখন মানিক জোর করে ভুক্তভোগী নারীকে তার বাসায় রাখেন। এ সময় তিনি অচিরেই বিয়ে করবেন— এমন আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলে তাদের সম্পর্ক। পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে  কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।